বয়স বাড়লে কানে কম শোনা— এক সময় এটা বার্ধক্যের লক্ষণ হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছবিটা বদলেছে। লাগামহীন মোবাইল ও হেডফোনের ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণের জেরে অল্পবয়সীদের মধ্যেও শ্রবণশক্তি হ্রাসের সমস্যা প্রকট হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল সচেতনতা আর খাদ্যাভ্যাসে সামান্য রদবদল করলেই এই বিপদ থেকে কানকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
কেন কমে শ্রবণশক্তি?
কানের ভিতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল চুলের মতো সূক্ষ্ম কোষগুলোর ক্ষতি এবং সঠিক রক্ত সঞ্চালনের অভাবই মূলত শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার এই কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ক্ষতি রোধ করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
কানের বন্ধু কোন খাবারগুলো?
সামুদ্রিক মাছ: স্যালমন, ম্যাকারেল বা সার্ডিন ওমেগা-৩-এর সেরা উৎস। এটি কানের রক্তপ্রবাহ সচল রেখে কোষকে সতেজ রাখে।
কলা: কলার ম্যাগনেশিয়াম কানের ভিতরের সূক্ষ্ম স্নায়ুকে বাইরের প্রবল শব্দের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
সবুজ শাকসবজি: পালংশাক ও ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন এ এবং সি কোষের ক্ষয় রোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বাদাম ও বীজ: জিঙ্ক সমৃদ্ধ আমন্ড বা আখরোট কানের সংক্রমণ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডার্ক চকোলেট ও দুগ্ধজাত খাবার: ডার্ক চকোলেটের ফ্ল্যাভোনয়েড রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। অন্যদিকে, ডিম বা দুধে থাকা ভিটামিন বি১২-এর অভাব মিটলে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।
কী এড়িয়ে চলবেন?
অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং প্রসেসড ফুড শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে কানের সূক্ষ্ম রক্তবাহী নালীগুলোর ক্ষতি করে। ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় বেশি খেলেও কানের সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞের দাওয়াই: ৬০/৬০ নিয়ম
ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শুধু খাবারই শেষ কথা নয়, এর পাশাপাশি অভ্যাস বদলাতে হবে। বিশেষ করে হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘৬০/৬০ নিয়ম’ মেনে চলুন। অর্থাৎ, ভলিউম সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশের উপরে তুলবেন না এবং একনাগাড়ে ৬০ মিনিটের বেশি হেডফোন ব্যবহার করবেন না। শরীরের পাশাপাশি কানের ভিতরের তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করাও একান্ত জরুরি। মনে রাখবেন, শ্রবণশক্তি একবার হারালে তা ফিরে পাওয়া কঠিন; তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ উপায়।





