কংগ্রেসের বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত! ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ তৈরির চেষ্টা, তীব্র বিতর্কে মুখোমুখি বিজেপি-কংগ্রেস

অসম কংগ্রেসের জেলা পর্যায়ের একটি দলীয় বৈঠকে এক প্রবীণ নেতার বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গাওয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অসমের শ্রীভূমি জেলার কংগ্রেস কার্যালয়ের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ প্রীতি’ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।

বিজেপি-র অভিযোগ: ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’

গত ২৭ অক্টোবর অসমের শ্রীভূমি জেলার ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেস সেবাদলের কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাসকে এই গানটি গাইতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামনে আসার পর বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল দাবি করেন, “কংগ্রেস সব সময় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।”

অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল ভিডিওটি শেয়ার করে আরও গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ অসমের শ্রীভূমিতে কংগ্রেসের সভায় গাওয়া হয়েছে – সেই দেশ যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভারতের থেকে আলাদা করতে চায়! এখন এটা স্পষ্ট যে, কংগ্রেস কেন কয়েক দশক ধরে অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়েছে এবং উৎসাহিত করেছে – ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য রাজ্যের জনসংখ্যা তথা ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এনে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ তৈরি করতে চেয়েছে।”

অসম বিজেপি-র দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের তোষণ করতেই কংগ্রেস এই গান গেয়েছে।

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব: ‘রবীন্দ্রনাথের গান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’

অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে এর একদম ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বিজেপি-কে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে বিজেপি কোনো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আবেগ বোঝে না।

তিনি বলেন, “বিধুভূষণ দাস, আমাদের দলের ৮০ বছরের প্রবীণ নেতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাধারণ সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গেয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত বিজেপি-র সেল গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, মুসলিম গোষ্ঠীর গান বলে বিরূপ প্রচার করছে।” গৌরব গগৈ মনে করিয়ে দেন, এই গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এবং এটি বাঙালির যৌথ সাহিত্যগত ঐতিহ্যের অংশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কেন বাংলা গান গাইতে পারব না?”

প্রসঙ্গত, ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে রচনা করেছিলেন। পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর এই গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে। শ্রীভূমি জেলা, যা বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন এবং বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার অংশ, সেখানে এই গান খুবই জনপ্রিয়।