এসিতেই বিপদ! অগ্নিকাণ্ডে প্রাক্তন আইএএস অফিসার ধনেন্দ্র কুমারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া

দিল্লির হাউজ খাস এলাকায় একটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার (CCI) প্রথম চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার ধনেন্দ্র কুমার। প্রায় ৮০ বছর বয়সি এই প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকের ছায়া প্রশাসনিক মহলে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর বাসভবনের এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) মেশিন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ১৮ মিনিট নাগাদ আগুন লাগার খবর পায় দমকল বাহিনী। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ধনেন্দ্র কুমারকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পরিবারের সূত্রে খবর, আগুন লাগার পর তাঁকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেন তাঁর পুত্র, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং স্থিতিশীল রয়েছেন। ধনেন্দ্র কুমারের স্ত্রী ও বাড়ির দুই গৃহকর্মী নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারলেও এই ঘটনায় গোটা পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
গরমের মরশুমে এসি বিস্ফোরণের এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসির উপর চাপ বাড়ে। টানা দীর্ঘক্ষণ এসি চালানো, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—এই তিনটি বিষয়ই সাধারণত দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রযুক্তিবিদদের মতে, টানা অনেকক্ষণ এসি না চালিয়ে মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখা উচিত, এতে কম্প্রেসরের উপর চাপ কমে। এছাড়াও এসির সার্ভিসিং, গ্যাস লিক পরীক্ষা এবং যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক আছে কি না, তা অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। নিম্নমানের ওয়্যারিং বা ঢিলেঢালা তার থেকে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা এসির মতো ভারী যন্ত্রের ক্ষেত্রে বেশি বিপজ্জনক। ভোল্টেজের তারতম্য রুখতে একটি নির্ভরযোগ্য ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় খরচ কমাতে মানুষ অনভিজ্ঞ মিস্ত্রি বা সস্তার যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেন, যা প্রাণঘাতী বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এসির থেকে পোড়া গন্ধ পাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া, স্পার্ক দেখা যাওয়া বা হঠাৎ ঠান্ডা হওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সতর্ক সংকেতগুলোকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। ধনেন্দ্র কুমারের এই অকাল প্রয়াণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার সময় নিরাপত্তা বিধি না মানলে তার মাশুল দিতে হতে পারে জীবন দিয়ে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতাই পারে এ ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রুখতে।