বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের সরাসরি কোপ এবার পড়ল আমজনতার পকেটে। পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম একধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা। এবার রাজধানী দিল্লি ও বাণিজ্যনগরী মুম্বইসহ দেশের একাধিক বড় শহরে একধাক্কায় অগ্নিমূল্য হলো কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি (CNG)।
দিল্লি ও মুম্বইয়ে নতুন দাম কত?
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীতে সিএনজি-র দাম কেজি প্রতি ২ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড (IGL) দাম বাড়ানোয় দিল্লিতে এখন প্রতি কেজি সিএনজি-র খুচরো দাম ৭৭.০৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.০৯ টাকায়।
অন্যদিকে, দিল্লির আগেই মুম্বই মহানগর এলাকায় সিএনজি-র দাম ২ টাকা বাড়িয়েছিল মহানগরি গ্যাস লিমিটেড (MGL)। এর ফলে মুম্বই ও তার পার্শ্ববর্তী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সিএনজি-র নতুন দাম হয়েছে ৮৪ টাকা প্রতি কেজি, যা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বাড়তে পারে অটো-ট্যাক্সি ভাড়া!
জ্বালানির এই লাগাতার দামবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে গণপরিবহণের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিএনজি-র দাম বাড়তেই মুম্বইয়ের অটোচালক সংগঠনগুলি ইতিমধ্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বাণিজ্যনগরীতে বর্তমানে অটোর ন্যূনতম ভাড়া ২৬ টাকা। চালকদের দাবি, বারবার জ্বালানির দাম বাড়ায় দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই ন্যূনতম ভাড়া অন্তত ১ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
কেন এই বেনজির জ্বালানি সংকট?
আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলির (OMCs) ওপর চাপ বাড়ছিল। সেই লোকসান সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি। এর আগে দেশজুড়ে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম একধাক্কায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। যার জেরে কলকাতা, হায়দরাবাদ ও তিরুবনন্তপুরমের মতো শহরে পেট্রলের দাম ইতিমধ্যে ১১০ টাকার গণ্ডি ছুঁয়েছে বা পার করে গেছে।
এদিকে জ্বালানির এই চরম দামবৃদ্ধির জেরে শেয়ার বাজারে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (HPCL) মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির শেয়ারের ওপরেও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে জ্বালানির এই জোড়া ধাক্কা মধ্যবিত্তের পকেট যে পুরোপুরি ফাঁকা করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





