এনডিএ বৈঠকে ফের অনুপস্থিতি! মোদীর জোটে না গিয়ে কোন বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন ইউসুফ পাঠানরা?

দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় তৃণমূলত্যাগী ও নবগঠিত এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের দলত্যাগ ও অবস্থান ঘিরে জল্পনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। গত সপ্তাহে এনডিএ (NDA) জোটে শরিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি ঘটলেও, এই শিবিরে ফাটল ধরাতে শুরু করেছেন দলের সংখ্যালঘু সাংসদরা। এর আগে প্রথম দফার বৈঠকে অংশ নেননি তিন বিশিষ্ট মুসলিম সাংসদ—আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। ঠিক একইভাবে, আজও এনডিএ-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন তাঁরা। শুধু বৈঠক বয়কট করেই ক্ষান্ত থাকেননি এই তিন নেতা, বরং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে শাসক শিবির তথা এনসিপিআই নেতৃত্বের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করেছেন।

সূত্রের খবর এবং সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য অনুযায়ী, আবু তাহের ও খলিলুর রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা দলগতভাবে এনসিপিআই-এর অংশ হলেও এনডিএ জোটের কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই তাঁরা রাজনৈতিকভাবে হাত মেলাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সংসদে যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিল পেশ করা হয়, তবে তাঁরা নিঃশর্তভাবে সেই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট জনবিন্যাস এবং স্থানীয় ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা। ইতিপূর্বে প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের সঙ্গে সংসদ চত্বরে খলিলুর রহমান ও আবু তাহেরের দীর্ঘ আলাপচারিতা এবং সৌগতবাবুর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সৌগত রায় দাবি করেছিলেন যে, তৃণমূল থেকে এনসিপিআই হয়ে হঠাৎ এনডিএ-তে যোগদানের এই আকস্মিক পালাবদল অনেকেরই মনঃপুত হয়নি এবং বেশ কয়েকজন সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এই প্রেক্ষাপটে তিন সংখ্যালঘু সাংসদের সরাসরি এনডিএ বৈঠক বয়কট এবং বিজেপি বিরোধী অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এনসিপিআই-এর অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই বিদ্রোহ কীভাবে জাতীয় রাজনীতি ও রাজ্য সমীকরণকে প্রভাবিত করে।