একুশে জুলাইকে ‘ডিম-ভাত উৎসব’ বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর! বিধানসভায় বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করে মমতার নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন!

একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই একুশে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট এবং বিগত বছরগুলির বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়েই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর সরাসরি অভিযোগ, প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের নামে যে ব্যাপক রাজনৈতিক আয়োজন করা হয়, তা আদতে জনকল্যাণমূলক কিছু নয়, বরং এটি একটি তথাকথিত ‘বাৎসরিক ডিম-ভাত উৎসব’ ছাড়া আর কিছুই নয়। পাশাপাশি, অতীতে একুশে জুলাইয়ের ঘটনায় স্বজন হারানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তিনি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন। বিরোধী দলনেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও বিধানসভায় পেশ করা রিপোর্টের জেরে শাসক শিবিরের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিধানসভার ভেতরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, প্রতি বছর শহিদ স্মরণের নামে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করা হলেও, যেসব পরিবার সেই আন্দোলনে সর্বস্ব হারিয়েছে, তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং প্রাপ্য আর্থিক সাহায্য আজও সঠিকভাবে প্রদান করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সুনির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিরোধী দলনেতার এই সমস্ত মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের ঠিক প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের আক্রমণাত্মক অবস্থান ও বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ করা মূলত শাসক শিবিরকে চরম অস্বস্তিতে ফেলার একটি সুচিন্তিত কৌশল। অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধীদের হতাশার ফল বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগে বিরোধী দলনেতার এই বিস্ফোরক বক্তব্য এবং বিধানসভার অন্দরের এই তরজা কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে এসে ঠেকেছে।