একাই টক্কর দিল বাকি বিশ্বের সঙ্গে: ১০,০০০ স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট! কেন এই মাইলফলক স্পেসএক্স-এর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

মহাকাশে ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক ছুঁল ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক (Starlink)। এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবাটি তাদের ১০,০০০তম স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ইলন মাস্ক স্টারলিঙ্ক টিমের প্রশংসা করেছেন।
সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) ইলন মাস্ক তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (আগের টুইটার) এই ঘোষণা করেন।
মাস্কের ঘোষণা: “অন্যদের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি”
ক্যালifornication-এর ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ২৮টি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে সংস্থাটি গত ১৯ অক্টোবর এই ১০,০০০ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাইলফলক অর্জন করে। এই লঞ্চটি স্পেসএক্স-এর ১৩২তম ফ্যালকন ৯ ফ্লাইট, যা গত বছরের রেকর্ডকে এই বছর আরও দুই মাসের বেশি সময় বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলল।
উচ্ছ্বসিত ইলন মাস্ক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “স্টারলিঙ্ক এবং ফ্যালকন টিমকে ১০ হাজার স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণ করার জন্য অভিনন্দন! স্পেসএক্স-এর কাছে এখন সম্মিলিতভাবে অন্য সকলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে।”
স্টারলিঙ্কও এক্স-এ জানায়, “স্পেসএক্স এখন পর্যন্ত ১০,০০০-এরও বেশি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, যা সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য উচ্চ-গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সক্ষম।”
স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) দ্বারা পরিচালিত স্টারলিঙ্ক, লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চলে এই পরিষেবা পাওয়া যায় এবং ভারতেও এটি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। ২০১৮ সালে দুটি প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইট (‘টিনটিন এ’ এবং ‘টিনটিন বি’) দিয়ে এই নেটওয়ার্কটি শুরু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত উৎক্ষেপণ হওয়া ১০,০০০-এরও বেশি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটের মধ্যে ৮,০০০-এরও বেশি স্যাটেলাইট বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
স্টারলিঙ্ক মোট ১২,০০০ স্যাটেলাইট স্থাপন করার অনুমোদন পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি ৩০,০০০-এরও বেশি স্যাটেলাইটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে, স্পেসএক্স সম্প্রতি তাদের বিশাল স্টারশিপ (Starship) রকেটের একাদশ পরীক্ষা ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে স্পেসএক্স মঙ্গল গ্রহে একটি স্থায়ী মানব উপস্থিতি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। নাসা (NASA)-ও তাদের আর্টেমিস ৩ মিশনের জন্য স্টারশিপকে চন্দ্রযান হিসেবে বেছে নিয়েছে।