দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র এবার গোটা রাজ্যের নজর কেড়ে নিল। তবে কোনো রাজনৈতিক হিংসা বা উত্তেজনার জন্য নয়, বরং এক বিরল প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির কারণে। ২০২৬-এর নির্বাচনে ভাঙড়ের ভোটাররা ভোটকক্ষে ঢুকে একটি নয়, বরং দু-দুটি ইভিএম (EVM) দেখতে পাবেন। প্রার্থীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে, একটি যন্ত্রে তাঁদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেন এই জোড়া ইভিএম? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ইভিএম বা ব্যালট ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৬টি বোতাম থাকে। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর নাম এবং ১৬ নম্বর বোতামটি ‘নোটা’ (NOTA)-র জন্য বরাদ্দ থাকে। কিন্তু ভাঙড়ে এবার প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জন।
রাজনৈতিক দলের প্রার্থী: ৭ জন
নির্দল প্রার্থী: ১২ জন
ফলে ১৫ জনের নাম প্রথম মেশিনে থাকলেও, বাকি ৪ জন প্রার্থী এবং ‘নোটা’ অপশনটি থাকবে দ্বিতীয় মেশিনে। ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে খুঁজে নিতে এবার দুই মেশিনে চোখ বোলাতে হবে।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও বাড়তি খরচ: ভাঙড়ে মোট বুথের সংখ্যা ৩০৪টি। প্রতিটি বুথে দুটি করে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) পাঠাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে কমিশনের।
সরঞ্জামের চাপ: ৩০৪টি বুথের জন্য ৬০৮টি ইভিএম সেট প্রয়োজন।
জায়গার অভাব: অনেক ছোট বুথে পাশাপাশি দুটি ইভিএম রাখার পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না, তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্ট্রংরুম সমস্যা: ভোট শেষে এত বিপুল সংখ্যক যন্ত্র সংরক্ষণের জন্য স্ট্রংরুমে জায়গা বাড়াতে হচ্ছে। প্রয়োজনে একটির ওপর আরেকটি যন্ত্র রেখে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজ্যের বাকি কেন্দ্রের ছবি: মজার বিষয় হলো, কোচবিহার দক্ষিণ, করণদিঘি ও ইটাহার কেন্দ্রে প্রার্থীর সংখ্যা ঠিক ১৫-তে এসে আটকেছে। ফলে ওই কেন্দ্রগুলো একটুর জন্য জোড়া ইভিএমের ঝক্কি থেকে বেঁচে গিয়েছে। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে কোথাও এমন নজির না থাকলেও, গত লোকসভা ভোটে যাদবপুর ও দক্ষিণ কলকাতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।





