কল্পনা করুন, আপনি হাঁচলেন আর আপনার নাক দিয়ে বেরিয়ে এল জ্যান্ত কোনো পোকা বা লার্ভা! শুনতে ভৌতিক ছবির মতো মনে হলেও ঠিক এই হাড়হিম করা ঘটনার শিকার হয়েছেন গ্রিসের এক মহিলা। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর জানা যায়, তিনি ‘মায়াসিস’ (Myiasis) নামক এক অত্যন্ত বিরল এবং ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
চিকিৎসকরা ওই মহিলার নাক ও সাইনাস পরীক্ষা করে স্তম্ভিত হয়ে যান। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীরের ভেতর থেকে ১০টি জ্যান্ত লার্ভা ও পিউপা বের করা হয়। জানা গেছে, মহিলার শরীরের ভেতর যে পতঙ্গটি বাসা বেঁধেছিল তা হলো ‘শিপ বট ফ্লাই’ (Sheep Bot Fly)। সাধারণত এই পতঙ্গ ভেড়া বা ছাগলের শরীরে জন্মায়। মানুষের সাথে এদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আক্রান্ত মহিলাটি যেখানে থাকতেন, সেখানে একটি ভেড়ার খামার ছিল।
কীভাবে ছড়ায় এই রোগ?
মায়াসিস মূলত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে ছড়ায়। এছাড়া:
পোকার ডিম বা লার্ভা মিশে আছে এমন খাবার খেলে।
আধসেদ্ধ মাংস খেলে।
শরীরের খোলা ক্ষতস্থানে পতঙ্গ ডিম পাড়লে।
এই লার্ভাগুলো শরীরের রক্ত বা প্লাজমার মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে পৌঁছে যায়। এরপর শরীরের ভেতরেই তারা পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে শুরু করে। নাক, চোখ, মুখগহ্বর এমনকি অন্ত্রের ভেতরেও এরা বাসা বাঁধতে পারে। পরজীবীরা শরীরের যেকোনো তাপমাত্রা ও প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে দক্ষ, যা রোগীর প্রাণসংশয় পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
সতর্কতা:
নাক বা শরীরের কোনো অংশে একটানা ব্যথা, অস্বস্তি বা অদ্ভুত কিছু অনুভব করলে তা অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে যাঁরা পশুপালনের সাথে যুক্ত বা খামারের আশেপাশে থাকেন, তাঁদের বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুসিদ্ধ খাবার খাওয়াই এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।





