একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত নেপাল! কোশি প্রদেশে মৃত ৩৭, ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ ১৬ জনের দল, উদ্ধারকাজে সেনা-পুলিশ!

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি গত দু’দিন ধরে একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে প্রতিবেশী দেশ নেপালও। ধস, বন্যা ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো ঘটনায় নেপালে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপালের পাঁচটি প্রদেশ— কোশি, মাধেস, বাগমতী, গন্ডকি এবং লুম্বিনিতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইলামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি, নিখোঁজ অনেকে
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ কোশি প্রদেশে।
মৃত্যু: এপিএফ-এর মুখপাত্র কালীদাস ধৌবাজি জানিয়েছেন, কোশি প্রদেশের ইলাম জেলার বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উদয়পুরে দু’জন এবং পঞ্চথারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং পথ দুর্ঘটনায় মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিখোঁজ: রাসুওয়া জেলার লাংগটাং সংরক্ষিত এলাকায় নদীতে জলস্ফীতি হওয়ায় চারজন ভেসে গিয়েছেন। লাংগটাং এলাকায় ট্রেকিং করতে যাওয়া ১৬ জনের একটি দলের মধ্যে ৪ জনের এখনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নেপালের সেনা, পুলিশ এবং এপিএফ একসঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কার্য চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইলাম জেলা থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা-সহ চারজনকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নেপালের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর
পড়শি দেশের এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “প্রবল বৃষ্টির জেরে নেপালে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে এবং অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনা বেদনার। এই দুঃসময়ে আমরা নেপালের মানুষ এবং সরকারের পাশে রয়েছি। প্রতিবেশী ‘বন্ধু দেশ’ হিসাবে আমরা যে কোনও রকম সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আবহাওয়ার উন্নতি: রাস্তা খুলে দিল কর্তৃপক্ষ
টানা বৃষ্টির জেরে শনিবার নেপাল কর্তৃপক্ষ কাঠমান্ডুতে এবং সেখান থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তবে রবিবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিগত দু’দিনের তুলনায় কম বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
জাতীয় সড়কগুলি পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ার পাশাপাশি এনডিআরআরএমএ জরুরি পরিষেবা, পণ্যবোঝাই এবং যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া যানগুলিকে জাতীয় সড়কে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। তবে বাগমতী ও পূর্ব রাপ্তি নদীতে এখনও লাল সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। রবিবার প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ বিমানের ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।