২০৪৭-এর ভারত গড়ার ব্লু-প্রিন্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে! সচিবদের নিয়ে ৪ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী বার্তা দিলেন মোদী?

নয়াদিল্লির ‘সেবা তীর্থ’-এ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের আমলাতন্ত্রকে একগুচ্ছ নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে মূলত দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং আগামী দিনে ভারতের অগ্রগতির রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল ফোকাসে ছিল ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ (ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা), ‘ইজ অফ লিভিং’ (নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করা) এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ভিত আরও মজবুত করা।

বৈঠকে সচিবরা স্ব স্ব দপ্তরে গৃহীত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পকে বাস্তবায়িত করার খসড়া পরিকল্পনা পেশ করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ‘বিকশিত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করাই এখন সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সেই মাইলফলকে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে গতি এবং দক্ষতার সমন্বয় থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না। নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো হয়রানির মুখে না পড়তে হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ (সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা) পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের মধ্যে ‘সিলোর’ মতো আলাদাভাবে কাজ করার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য ‘পিএম গতিশক্তি’ প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আরও ব্যাপক এবং কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মোদী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের কোনো প্রকল্পের সাফল্য কেবল কাগজে-কলমে বাস্তবায়নের ওপর বিচার করা উচিত নয়। একটি প্রকল্পের প্রকৃত সফলতা তখনই ধরা পড়বে, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সচিবদের জনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আধুনিক ভারত গঠনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্দীপনা ছড়িয়েছে। সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে আজকের এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।