“উত্তরবঙ্গে নয়া দিগন্ত!…”-হাসিমারা বিমানবন্দর গড়ার পথ প্রশস্ত, জমি জট কাটাল রাজ্য সরকার

উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাসিমারাতে বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত হাসিমারাতে বিমানবন্দর গড়ার লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার ফলে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির একাংশসহ প্রতিবেশী দেশ ভুটানের নাগরিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, হাসিমারা বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য মোট ৩৭.৭৪ একর জমির প্রয়োজন। বিগত সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে জমি হস্তান্তরের টানাপোড়েনে এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় থমকে ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই জমি জট কাটাতে বিশেষ তৎপর হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে জেলা প্রশাসন দ্রুত জমি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করে। সাতালি চা বাগান এবং হাসিমারা বায়ু সেনা ছাউনির সংলগ্ন জমি নিয়েই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে।
আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, “হাসিমারাতে বিমানবন্দর হলে কেবল আলিপুরদুয়ার বা কোচবিহারবাসীই নয়, উপকৃত হবেন বিন্নাগুড়ি ও হাসিমারা সেনা ছাউনির আধিকারিক ও জওয়ানরা। পাশাপাশি, ভুটানের নাগরিকদের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে আলিপুরদুয়ার থেকে নিকটবর্তী বাগডোগরা বিমানবন্দরের দূরত্ব ১৩৮ কিমি এবং রূপসী বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ৮৩ কিমি। হাসিমারা বিমানবন্দর চালু হলে এই দীর্ঘ ভ্রমণপথের সময় ও ঝক্কি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ইতিপূর্বে ২০২২ সালের জুনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকে হাসিমারা বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিষয়টি অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে আসে। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের কাছে এই বিমানবন্দর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং আঞ্চলিক অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর এক বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।