উত্তরবঙ্গের দুর্যোগের মধ্যে আকাশ ছোঁয়া বিমান ভাড়া, কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সড়ক ও রেল যোগাযোগ যখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত, ঠিক তখনই বিমান সংস্থাগুলির লাগামছাড়া ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাগডোগরা (Bagdogra) থেকে কলকাতা পর্যন্ত উড়ান ভাড়া ১৮ হাজার থেকে শুরু করে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

১৮ হাজার থেকে ৪৫ হাজার!
বুধবার কলকাতায় ফিরেই বিমানবন্দরের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলি কীভাবে ভাড়ার হার এত বাড়িয়ে দিতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা দুর্যোগ হয়ে যাওয়ার পরে বলতে পারেন, কেন বাগডোগরা থেকে কলকাতা ফ্লাইটের ভাড়া ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে? যাঁরা ফ্লাইট পাচ্ছেন না, দিল্লি হয়ে ঘুরে যাচ্ছেন, তাঁদের ভাড়া পড়ছে প্রায় ৪২–৪৫ হাজার টাকা। এটা কল্পনা করতে পারেন?”

যাত্রীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উড়ান ভাড়া দ্বিগুণ, কখনও বা তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রয়োজন থাকলেও পর্যটক থেকে সাধারণ যাত্রী— সকলেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

“বিমাতৃসুলভ আচরণ”
মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাটিকে নিছক ব্যবসায়িক বিষয় নয়, বরং বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, দুর্যোগের সময় মানুষের দুর্ভোগকে উপেক্ষা করার এটি কেন্দ্রের এক নগ্ন নিদর্শন।

তাঁর ভাষায়, “সব সময়ে বিমাতৃসুলভ আচরণ! দুর্যোগের সময় তো কেন্দ্রের দায়িত্ব আরও বেশি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কোনও হস্তক্ষেপ নেই।”

উড়ানের উপর এত চাপের অন্যতম কারণ হলো, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারসহ একাধিক জেলায় রেল ও সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ট্রেন বাতিল হওয়ায় উড়ানই এখন একমাত্র বিকল্প।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক চাইলে সহজেই ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারত অথবা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে বিপর্যস্ত মানুষদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু তা না করে কেন্দ্র মুখ ফিরিয়ে রয়েছে—এমনটাই অভিযোগ রাজ্য সরকারের।