উত্তরপ্রদেশে শৌচাগার থেকে উদ্ধার ৪০ নাবালিকা, কী কারণে আটকে রাখা হয়েছিল তাদের?

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচে এক ভয়াবহ ঘটনায়, একটি বেআইনি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ৪০ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি আধিকারিকেরা জানান, পরিদর্শন চলাকালীন ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী এই ছাত্রীদের শৌচাগারের ভিতরে তালাবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পায়াগপুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) অশ্বিনী কুমার পাণ্ডে জানিয়েছেন, পাহলওয়ারা গ্রামের একটি তিনতলা বাড়িতে এই বেআইনি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানটি চলছিল। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে পরিদর্শনে যায়। এসডিএম বলেন, ‘বুধবার আমরা যখন পরিদর্শনে পৌঁছাই, মাদ্রাসার পরিচালকেরা প্রথমে আমাদের উপরে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আমরা ভিতরে ঢুকি এবং ছাদে একটি শৌচাগার তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পাই।’
কেন শৌচাগারে লুকানো হয়েছিল ছাত্রীদের?
এসডিএমের মতে, এক মহিলা আধিকারিক দরজা খুলতেই দেখেন, শৌচাগারের ভিতরে কমপক্ষে ৪০ জন নাবালিকা রয়েছে। তারা এতটাই আতঙ্কিত ছিল যে স্পষ্ট ভাবে কিছু বলতে পারছিল না। মাদ্রাসার আটটি ঘর থাকা সত্ত্বেও কেন নাবালিকাদের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, এই প্রশ্নের জবাবে এক শিক্ষিকা দাবি করেন, শোরগোলে আতঙ্কিত হয়ে ছাত্রীরা নিজেরাই ভিতরে ঢুকে তালা দিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে এই মাদ্রাসাটি কোনো রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছিল। কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্ট্রেশন বা বৈধতার কোনো নথি ছিল না। এই মাদ্রাসাটি ২০২৩ সালের সমীক্ষকদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা
ইতিমধ্যেই মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ মাদ্রাসার নথি পরীক্ষা করছে। কর্তৃপক্ষকে সমস্ত ছাত্রীকে নিরাপদে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রমানন্দ প্রসাদ কুশওয়াহ্ জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তিনি বলেন, ছাত্রীদের অভিভাবক, এসডিএম বা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক – কেউই অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই বারাণসীর একটি মাদ্রাসায় চুরির অভিযোগে ১২ বছর বয়সি এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।