উচ্চমাধ্যমিকে গণিত ও বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ক্ষুব্ধ সংসদ! বড় ঘোষণা দিলেন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য

উচ্চমাধ্যমিকের নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা শুরু হতেই প্রথম বড় বিতর্কের মুখে পড়লো উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। স্ট্যাটিস্টিকস, অঙ্ক এবং পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত দীর্ঘ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে সংসদ। সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য নিজে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ সংসদ, আশ্বাস সভাপতির
প্রশ্নপত্র দীর্ঘ হওয়ায় সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অঙ্ক, পদার্থবিদ্যা এবং স্ট্যাটিস্টিকসের প্রশ্ন এতটাই দীর্ঘ ছিল যে অনেক পরীক্ষার্থীই পুরো উত্তর দিতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করছি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ মাথায় রেখে মূল্যায়ন করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এমন সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে। প্রশ্নপত্র নিয়ে এই বিতর্কের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো যায় কিনা, সেই বিষয়েও দ্রুত একটি বৈঠক ডাকা হবে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ: সময় কম, রাফ পেপার নেই!
এই বছরই প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সেমিস্টার পদ্ধতিতে হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার সময় অত্যন্ত কম। পদার্থবিদ্যা পরীক্ষার পর একই অভিযোগ উঠেছে গণিত পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছে, মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অসম্ভব। লবণহ্রদ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অমিত পয়রার কথায়, “সময়ের অভাবে অনেক অঙ্কই করতে পারিনি। কিছু প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে লিখেছি।” বেগম রোকেয়া স্কুলের ছাত্রী সৃষ্টি নাগ এবং লিরিক মহাপাত্রও একই সুরে কথা বলেছে। তাদের মতে, ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে না পারায় এবং রাফ করার জন্য পর্যাপ্ত খাতা না থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।

অভিভাবকদের ক্ষোভ: ‘আমাদের সন্তানদের গিনিপিগ বানানো হচ্ছে’
নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবকও। তাঁদের অভিযোগ, নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে পরীক্ষার্থীরা এখনো পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নয়, আর এর মাঝেই তাদের ওপর এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক অভিভাবক শিল্পা নন্দী বলেন, “যে অঙ্ক বাড়িতে করতে ৩-৪ মিনিট সময় লাগে, তা পরীক্ষার হলে ১ মিনিটে করা কীভাবে সম্ভব? ওদের গিনিপিগ বানানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দেওয়া উচিত ছিল।

সংসদের এই ঘোষণার পর, এখন দেখার বিষয় মূল্যায়ন পদ্ধতি কীভাবে পরিবর্তন করা হয় এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষায় সময়সীমা বাড়ানো হয় কি না। এই পুরো বিতর্কে এক নতুন মোড় আনল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এই পদক্ষেপ।