গাড়ির বাজারে মারুতির দাপট! গত মাসের বিক্রির হারে রেকর্ড, কোন মডেল কিনলেন সবচেয়ে বেশি মানুষ?

ভারতের অটোমোবাইল বাজারে ফের একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল মারুতি সুজুকি। ২০২৬ সালের জুন মাসে মারুতি সুজুকির বিক্রয় পরিসংখ্যানে বিশাল প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রমাণ করে যে ভারতীয় গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় এখনও এক নম্বরে রয়েছে এই সংস্থা। জুন ২০২৬-এ মারুতি সুজুকি মোট ১,৪৭,১৮৭ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে, যা জুন ২০২৫-এ বিক্রি হওয়া ১,১৮,৯০৬ ইউনিটের তুলনায় ২৪ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
মারুতির এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের মডেলভিত্তিক শক্তিশালী পারফরম্যান্স। গত মাসে বিক্রির তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে মারুতি ডিজায়ার। জনপ্রিয় এই কমপ্যাক্ট সেডানটির ১৭,৮৯৯ ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। ৬.২৬ লক্ষ থেকে ৯.৩৬ লক্ষ টাকা মূল্যের এই গাড়িতে রয়েছে ১.২-লিটার জেড-সিরিজ পেট্রোল ইঞ্জিন, যা সিএনজিতে ৩৩.৭৩ কিমি/কেজি পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। আধুনিক ডিজাইনের পাশাপাশি ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ৫-স্টার নিরাপত্তা রেটিংয়ের মতো ফিচার একে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রেখেছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মারুতি ওয়াগন আর, যার ১৬,৯৫২ ইউনিট বিক্রি হয়েছে (৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি)। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জনপ্রিয় এমপিভি এরটিগা, যার ১৬,১১১ ইউনিট বিক্রি হয়েছে (১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি)। চতুর্থ স্থানে ১৫,২১৫ ইউনিট বিক্রি নিয়ে রয়েছে মারুতি সুইফট। পঞ্চম স্থানে থাকা মারুতি ফ্রঙ্কস বিক্রিতে ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ১৩,১৩৫ ইউনিট বিক্রি করেছে।
শীর্ষ ৫ মডেলের বাইরেও অন্যান্য গাড়ির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যালেনো (১২,৪৮৮ ইউনিট), অল্টো (১০,৩৮৮ ইউনিট), ইকো (১০,২৩০ ইউনিট) এবং ব্রেজা (৯,৯৩৯ ইউনিট) তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভালো ফল করেছে। তবে ব্রেজা এবং সেলেরিওর মতো কিছু মডেলের চাহিদা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। জিমনি (৩৫৪ ইউনিট) এবং ইনভিক্টো (৩৪৯ ইউনিট) বিক্রির তালিকায় নিচের দিকে থাকলেও, সামগ্রিকভাবে মারুতির এই বিপুল বিক্রির সংখ্যা ভারতীয় অর্থনীতির ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। কোম্পানিটি যে প্রতিনিয়ত তাদের প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং ক্রেতাদের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন ফিচার আনছে, তার প্রতিফলনই এই বিক্রির পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।