ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানির আগুন! ভারতের বাজারে কি এবার পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড় ধামাকা?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত চার দিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যেখানে বর্তমানে মার্কিন ও ইরানি শক্তির সংঘাতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতার জেরে ভারতের সাধারণ মানুষের মনেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি আপাতত জ্বালানির দামে কোনো রকম পরিবর্তন আনেনি এবং দেশের বড় শহরগুলিতে খুচরা বাজার মোটের উপর স্থিতিশীল রয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত সরকারি আপডেট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহর এবং প্রধান অঞ্চলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজকের নির্দিষ্ট শহরভিত্তিক জ্বালানির দর: কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেল ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। মুম্বইতে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১১ টাকা ২১ পয়সা এবং ডিজেল ৯৭ টাকা ৮৩ পয়সা। রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোল ১০২ টাকা ১২ পয়সা এবং ডিজেল ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। বেঙ্গালুরুতে পেট্রোল ১১০ টাকা ৯০ পয়সা এবং ডিজেল ৯৮ টাকা ৮০ পয়সা। চেন্নাইতে পেট্রোল ১০৭ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ডিজেল ৯৯ টাকা ৫৫ পয়সা। এছাড়া হায়দরাবাদে প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৫ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ডিজেল ১০৩ টাকা ৮২ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দেশজুড়ে রেকর্ড গতিতে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে মোট চার দফায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম চড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে বড় চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। মে মাসের প্রথম ও মধ্যভাগে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৮ টাকা ০৬ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৭ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছিল। সেই সময় কলকাতায় পেট্রোলের সর্বমোট দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১৩ টাকা ৫১ পয়সায় এবং ডিজেল পৌঁছে গিয়েছিল ৯৯ টাকা ৮২ পয়সায়। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে ভারতের অর্থনীতি এবং ঘরোয়া মুদ্রাস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দাম স্থিতিশীল রাখায় আপাতত হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন সাধারণ দেশবাসী।