“ইরানের সামরিক ক্ষমতা ধূলিসাৎ! খামেনেই-পুত্রের অবস্থাও সংকটে”- হুঙ্কার ট্রাম্পের

ফের অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং সেদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চিহ্ন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে।

কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ওদের আর কোনো শীর্ষ নেতা অবশিষ্ট নেই।” প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা খামেনেই বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, তাঁর ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ব্লকেড: পরিস্থিতি আরও জটিল করে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে ব্লকেড (সমুদ্র অবরোধ) চালু করবে। ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্ট অনুযায়ী, আমেরিকা এখন থেকে ‘হরমুজ প্রণালীর রক্ষক’ হিসেবে কাজ করবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে নিরাপত্তার জন্য পণ্যের মূল্যের উপর ২০ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হবে।

  • ইরানের জাহাজ বা তাদের গ্রাহকদের জন্য এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে ইরানই হরমুজ প্রণালীর রক্ষক এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। ট্রাম্পের ২০ শতাংশ ট্যাক্সের প্রস্তাবকেও অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

কেন এই উত্তেজনা? বিশ্বের জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে দড়ি টানাটানি চলছে, তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যকে কোন দিকে ঠেলে দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।