বিমানবন্দরের ভেতরে নমাজ বন্ধ! বাঁকড়া মসজিদ নিয়ে কেন বাড়ল বিতর্ক?

কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাঁকড়া মসজিদে আপাতত নমাজ পাঠ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, শনিবার থেকে ওই মসজিদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় এন্ট্রি পাস দেওয়াও স্থগিত করা হয়েছে।

বিতর্কের মূল কারণসমূহ:

  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিমানবন্দরের মতো অতি সংবেদনশীল এলাকায় বৈধ পাস ছাড়া প্রবেশাধিকার দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এতদিন মূলত পরিচয়পত্রের (যেমন [Aadhaar Redacted]) ভিত্তিতে সেখানে প্রবেশের অনুমতি মিলত, যা বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী।

  • আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যে কোনো স্থায়ী কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ, এই মসজিদটি সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত, যা বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বাধা।

  • সম্প্রসারণের পরিকল্পনা: রানওয়ের আধুনিকীকরণ ও সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ওই মসজিদটিকে অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গায় স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি বিমানবন্দরের জন্মের বহু আগে থেকেই সেখানে রয়েছে। ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় মসজিদটিকে রক্ষা করার মৌখিক প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে মসজিদটি স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, আইনি ও ধর্মীয় জটিলতার কারণে তা বারবার থমকে গিয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:

  • বিজেপি: শুভেন্দু অধিকারীর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুরক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন।

  • তৃণমূল: তৃণমূল নেতা মদন মিত্র বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করে, সকল পক্ষকে সতর্কতার সাথে আলোচনা করার আবেদন জানিয়েছেন।

  • বামফ্রন্ট: বর্ষীয়ান বাম নেতা রবীন দেবের দাবি, তাদের আমলে কখনোই এই ধরনের বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করা হয়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও রানওয়ে সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখন মসজিদটিতে সাধারণের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য আলোচনার পথ বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।