মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! তেলের দামে বড়সড় ধস, আকাশছোঁয়া পেট্রোল-ডিজেলের খরচ নিয়ে চিন্তায় মধ্যবিত্ত?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর কালবৈশাখীর মতো আঘাত হেনেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের তীব্রতায় ফের চড়চড়িয়ে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান দেওয়ার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় চার শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি তেলের দর দাঁড়িয়েছে ৭৯.১ ডলারে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল বিশ্ববাজার নয়, ভারতের জ্বালানি কাঠামোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্দেশিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ কর বা শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন তিনি। হরমুজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণ করিডোর হওয়ায়, এই শুল্কের ফলে জাহাজের পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। স্বভাবতই, এই বাড়তি খরচের বোঝা সরাসরি পণ্যমূল্য এবং জ্বালানির ওপর পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী কিছুদিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সরকার আগের চড়া দামে কেনা তেলের স্টক শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তেলের দাম টানা দুই-তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই পরিকল্পনায় বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে এখনই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে কিনা, তা নিয়ে সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। তেলের দামের এই অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা মুদ্রাস্ফীতিকেও উসকে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কর নীতির প্রভাব শুরু হওয়ায়, সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেল নিয়ে বড়সড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। আপাতত, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতায় সাধারণ মানুষ পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রবল উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।