ইরানের মসনদে বড় রদবদল! হঠাৎ কেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে বসলেন খামেনেইর ঘনিষ্ঠ জলঘদর?

ইরানের রাজনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হঠাৎ করেই এক বড়সড় ও চাঞ্চল্যকর রদবদল ঘটানো হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) প্রাক্তন সচিব মোহাম্মদ বাঘের জলঘদরকে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন। একই সঙ্গে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং পোড় খাওয়া কমান্ডার মোহসেন রেজাইকে ওই শক্তিশালী নিরাপত্তা কাউন্সিলে খামেনেইর নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটময় মুহূর্তে এই পদ বদল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এক নতুন এবং অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দিয়েছে।
রবিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে পরপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে খামেনেই এই রদবদলের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। জলঘদরকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানান যে, তাঁর দীর্ঘদিনের বহুমুখী ও মূল্যবান অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে এই বিশেষ রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসলামিক বিপ্লবের আদর্শকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সফল হবেন বলেই আশাবাদী সুপ্রিম লিডার। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই বড় রদবদলটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘোষণা করা হল, যখন কৌশলগত হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার জন্য তেহরান আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত ঝুলিয়ে রেখেছে এবং তেহরান-ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরবর্তী প্রভাবসম্পন্ন। এর আগে গত মার্চ মাসেই আলী লারিজানির মৃত্যুর পর আইআরজিসি-র সিনিয়র কমান্ডার জলঘদর অত্যন্ত শক্তিশালী SNSC-র সচিবের পদ গ্রহণ করেছিলেন। তেহরানের নিরাপত্তা মহলে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও, এই পদ পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে তাঁর প্রভাব বিন্দুমাত্র হ্রাস পেয়েছে। বরং সুপ্রিম লিডারের সরাসরি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে উন্নীত হওয়ায় তিনি এখন কৌশলগত নীতিনির্ধারণের মূল কেন্দ্রবিন্দুর আরও অনেক কাছাকাছি চলে এলেন। অন্যদিকে, রেজাইয়ের মতো বর্ষীয়ান সামরিক কমান্ডারকে কাউন্সিলে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে বসিয়ে খামেনেই বুঝিয়ে দিলেন যে শীর্ষ নিরাপত্তা আলোচনা থেকে সামরিক অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সাম্প্রতিক এই প্রশাসনিক রদবদলের ঠিক আগেই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে খামেনেইর একটি উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতিত্বের তৃতীয় বর্ষে প্রবেশের প্রাক্কালে হওয়া ওই বৈঠকে দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামরিক উন্নয়ন, জ্বালানি খাতে ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নির্বাচিত সরকার এবং দেশের প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা প্রশমিত করতেই সুপ্রিম লিডার এই সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন। হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তেহরানের এই শীর্ষ স্তরের ক্ষমতার বিন্যাস আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।