যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ ও সংসদের অচলাবস্থা! উত্তাল রাজনৈতিক ময়দানে কোন বিস্ফোরক জবাব চাইল বিরোধীরা?

রাজধানীর যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী সময়ে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের জেরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার রেশ সরাসরি গিয়ে পড়েছে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা সংসদে। ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভার উভয় কক্ষের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে ছাত্রদের ওপর হওয়া লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর নেপথ্যের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিসহ দেশের সমস্ত প্রধান বিরোধী দলগুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা দাবি করেছে। বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট দাবি, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদের উভয় কক্ষে এসে এই বিষয়ে যথাযথ উত্তর দিতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরে যন্তর মন্তরে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে ছাত্র সমাজ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলন দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়। এই ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী সাংসদরা মনে করছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এই ধরনের দমনপীড়ন বরদাস্ত করা যায় না। ফলস্বরূপ, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে প্রবল শোরগোল শুরু হয়। দুই কক্ষের অধিবেশন বারবার মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন স্পিকার ও চেয়ারম্যানরা।
বিরোধী দলগুলির এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের এই প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, বিরোধীরা সুনির্দিষ্ট কোনো জনকল্যাণমূলক আলোচনায় অংশ না নিয়ে কেবল অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সংসদীয় প্রক্রিয়াকে অচল করে রাখছে। সরকারের মতে, নিয়মমাফিক আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো ইস্যুতে বিতর্কের সুযোগ থাকলেও সংসদকে অচল করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী জোটের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই চরমে পৌঁছেছে। একদিকে যখন বিরোধীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি তুলছে, অন্যদিকে শাসক দল সংসদ সচল রাখার জন্য বিরোধীদের সহযোগিতা কামনা করছে। এই অচলাবস্থা কবে কাটবে এবং সরকার পক্ষ এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো বিবৃতি দেবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। আসন্ন দিনে এই ইস্যুটি জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।