প্রশ্নফাঁসের জ্বালায় ফুঁসছে ঝাড়খণ্ড! বিধানসভা অভিযানে নামতেই পুলিশের জলকামানকে বুড়ো আঙুল!

সোমবার সকালে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে এক বেনজির ও উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো প্রতিবাদে এবং নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ব্যারিকেড ভেঙে সোজা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। এই বিশাল বিক্ষোভ দমনে পুলিশ দফায় দফায় জল কামান ছুঁড়লেও পিছু হটা তো দূরের কথা, উল্টে জলের সেই প্রবল ধারার সামনেই বুক চিতিয়ে আনন্দে নাচতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। তরুণ প্রজন্মের কেরিয়ার বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতিতে বলি হচ্ছে—এই ক্ষোভকে সামনে রেখেই এদিন হাজার হাজার পড়ুয়া রাঁচি বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন।

১৬ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি হিসেবে এদিন সকাল থেকেই ট্রেন, বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া রাঁচিতে এসে জড়ো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শহরের প্রধান রাস্তা ও বিভিন্ন সীমানায় কড়া তল্লাশি চালানো হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়। তবে সমস্ত সরকারি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যখন বিধানসভার দিকে এগোতে থাকেন, তখন গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন পড়ুয়ারা। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন না পর্যন্ত এই পুরো দুর্নীতির সিবিআই (CBI) তদন্ত হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন থামবে না। বর্তমানে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী এখনও আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অনশনরত অপর ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো অবশ্য আন্দোলনকারীদের শান্ত থেকে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পথ এড়িয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এর আগে রবিবার পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের একাধিক দফায় বৈঠক হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পড়ুয়াদের প্রধান অভিযোগ, তাঁরা নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষা বাতিলের জোরদার দাবি জানিয়েছিলেন। এদিকে তীব্র চাপের মুখে সিআইডি-র (CID) সমন পেয়ে ইতিমধ্যেই জেপিএসসি-র (JPSC) ৩ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন এবং এর আগে গত ২২ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে-ও ইস্তফা দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি পুরোপুরি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনে কড়া বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধী বিজেপি নেতারাও।