অভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বজয়! ১২ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মার্কিন মিশনে ভারতের গর্ব এই ছাত্রী!

আর্থিক অনটন যে জীবনের বড় কোনো বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখাল অন্ধ্রপ্রদেশের ১৪ বছরের কিশোরী কন্দুলা জেসি। মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়ার সুপ্ত স্বপ্ন বুকে নিয়ে এবার বিশ্বমানের এক অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করল সে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিশ্বের প্রথম গ্লোবাল অল-গার্লস লুনার কিউবস্যাট মিশন বা ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এর জন্য সারা দেশ থেকে নির্বাচিত মাত্র ২০ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এই দশম শ্রেণির ছাত্রী। বিশ্বের ১০৮টি দেশের প্রায় ১২,০০০ আবেদনকারীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তাকে এই আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের সুবাদে গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী দলে জায়গা পাওয়া একমাত্র কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছে জেসি।
নুন আনতে পান্তা ফুরনো এক দরিদ্র ও সংগ্রামী সংসারে জেসির বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা পেশায় একজন সাধারণ কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহবধূ। পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে একসময় বাধ্য হয়েই তাঁকে বেসরকারি স্কুল থেকে ছাড়িয়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির ফেইরে সেই সরকারি স্কুলেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে জেসির স্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং অটল টিঙ্কারিং ল্যাবের ইনচার্জ মণিমালা জেসির মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তীব্র কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করেন। এরপরই তিনি জেসিকে বিশ্বমঞ্চের এই মর্যাদাপূর্ণ মিশনে আবেদন করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় জেসি একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে এবং শেষমেশ শিক্ষকদের অক্লান্ত সহযোগিতায় এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধিদলে নিজের পাকা জায়গা করে নেয়।
তবে এই সুদীর্ঘ পথটি জেসির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। স্যাটেলাইট সিস্টেম, প্রোপালশন এবং থার্মোডাইনামিক্সের মতো অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো রপ্ত করতে তাঁকে প্রায় ৫৫০টি অনলাইন সেশনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের প্যানেলের মুখোমুখি হয়ে কঠিন ইন্টারভিউ এবং সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথোপকথন চালাতে হয় তাঁকে। প্রথমে এই পরিবেশ নিয়ে জেসির মনে ভয় কাজ করলেও স্কুলের শিক্ষকদের নিয়মিত উৎসাহ ও সঠিক নির্দেশনায় সে সমস্ত বাধা সফলভাবে অতিক্রম করে। জানা গিয়েছে, ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এর পরবর্তী ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মশালা শুরু হবে। আগামী ১১ অক্টোবর শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এই কৃতি ছাত্রীদের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ বা কিউবস্যাট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে। জেসির এই যুগান্তকারী সাফল্য আবারও প্রমাণ করে দিল যে, বড় স্বপ্ন দেখার জন্য কোনো নামী দামি স্কুল বা বিপুল আর্থিক সচ্ছলতার প্রয়োজন হয় না। মানুষের প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং অদম্য জেদ থাকলে সাধারণ সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও বিশ্বজয় করতে পারে। ভবিষ্যতে ইসরো-র (ISRO) একজন সফল বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই কিশোরীর দুর্দান্ত অর্জন এখন গোটা দেশের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।