ইঞ্জিনিয়ারিং যখন ব্যর্থ, ভরসা তখন চণ্ডীপাঠে! তিনবার ধসে পড়া বিহারের সেই অভিশপ্ত সেতুতে এবার তুকতাক

কথায় আছে, যেখানে বিজ্ঞান শেষ হয়, সেখান থেকেই আধ্যাত্মিকতার শুরু। বিহারের ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জ-আগুয়ানি চার লেনের সেতুর ক্ষেত্রে যেন সেই প্রবাদই সত্যি হতে চলেছে। ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুটি গত তিন বছরে তিন-তিনবার তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে। সমস্ত আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং যখন ব্যর্থ, তখন সেতুর ‘বাস্তু দোষ’ কাটাতে যজ্ঞ ও চণ্ডীপাঠের শরণাপন্ন হল নির্মাণকারী সংস্থা এসপি সিংগলা কনস্ট্রাকশন।

কাশীর পণ্ডিতদের হুকুমে যজ্ঞ:
সেতুর নির্মাণকাজে বারবার বাধা আসায় এবার খাস কাশী থেকে সাতজন অভিজ্ঞ পুরোহিতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আচার্য বিনোদ কুমার তিওয়ারির মতে, সেতুর ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর স্তম্ভের মূলে গভীর বাস্তুগত ত্রুটি থাকতে পারে। সেই অশুভ শক্তি দূর করতেই সুলতানগঞ্জের প্রকল্প চত্বরে পাঁচ দিনব্যাপী চণ্ডীপাঠ, নবগ্রহ পূজা এবং বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গঙ্গার তীরে মহা আরতি এবং বাবা অজয়বীনাথ মন্দিরে রুদ্রাভিষেকও সম্পন্ন হয়েছে।

স্বপ্নের প্রকল্প যখন দুঃস্বপ্ন:
২০১৫ সালে বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের হাত ধরে এই স্বপ্নের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। ভাগলপুর ও খাগারিয়াকে যুক্ত করার লক্ষ্যে তৈরি এই ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর কপালে বারবার জুটেছে বিপর্যয়:

২০২২: ঝড়ের দাপটে ৩৬টি অংশ ভেঙে পড়ে।

২০২৩: ১০০ মিটারের বেশি উপরিকাঠামো গঙ্গায় তলিয়ে যায়।

২০২৪: ৯ নম্বর পিলারের কাঠামো ধসে পড়ে।

ইতিমধ্যেই উদ্বোধনের ১২টি সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২০২৮ সাল। নির্মাণকারী সংস্থার দাবি, তারা প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি খতিয়ে দেখছে এবং নকশায় পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সিমারিয়া সেতু তৈরির সময় এমন বাধা আসেনি, যা এখানে বারবার আসছে। তাই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি এখন ভগবানের আশীর্বাদই তাঁদের শেষ ভরসা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy