বিধানসভায় হাসির রোল! কেন হঠাত্ ঋতব্রতদের বেঞ্চে গিয়ে বসলেন কুণাল ঘোষ?

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন এক অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত বিধায়করা। একদিকে যখন গুরুত্বপূর্ণ ‘গুন্ডাদমন বিল’ নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন হঠাৎ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে নিজের নির্ধারিত স্থান ছেড়ে বিরোধী বেঞ্চের কাছাকাছি, অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান ও আখরুজ্জামানের মতো ‘ঋতব্রতপন্থী’ বিধায়কদের বেঞ্চে গিয়ে বসতে দেখা যায়।
কেন এই জটলা? বিধানসভার অন্দরে কুণাল ঘোষকে ফিরহাদ হাকিমদের সঙ্গে বেশ খোশমেজাজে আলোচনা করতে দেখা যায়। এই সময়েই ওই একই বেঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে বিলের ওপর ভাষণ দিচ্ছিলেন তৃণমূলেরই অন্য এক বিধায়ক গোলাম রাব্বানি। সামনে কুণাল-ফিরহাদদের জটলা ও আলোচনার কারণে রাব্বানি বারবার বিরক্ত বোধ করেন এবং তাদের থামতে অনুরোধ করেন। এই পুরো দৃশ্যটি হাউসের অন্যান্য বিধায়কদের নজরে আসতেই হাসির রোল পড়ে যায়। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই দৃশ্য দেখে হাসি চাপতে পারেননি।
কী বললেন কুণাল ঘোষ? ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষকে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত হালকা মেজাজে উড়িয়ে দিয়ে জানান, “ফিরহাদ হাকিম নিজেই আমাকে বসতে বলেছিলেন।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা কোনো অপরাধ নয়।
বিধানসভায় অন্য এক অস্থিরতা উল্লেখ্য, বিলের ওপর আলোচনা করতে উঠে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যখন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন, তখন শাসক শিবিরের তরফ থেকে তীব্র কটাক্ষ ভেসে আসে। মন্ত্রীদের একাংশকে বলতে শোনা যায়, “নিজেদের ঘরের ঝামেলা ঘরেই মেটান” কিংবা “ওটা সর্বভারতীয় নয়, কালীঘাট তৃণমূল।”
বিধানসভার অন্দরে দলের অন্দরের এই বিভাজন ও অস্বস্তিই যেন এদিন কুণাল ঘোষের বেঞ্চ পরিবর্তন এবং গোলাম রাব্বানির বিরক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার ফ্লোরে দলের নেতাদের এই আচরণ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকেই আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল।