ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার দুর্নীতি! হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি ইন্দ্রনীল সেনের

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে ঢাল করে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। রবিবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলায় আপাতত গ্রেফতারি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেলেন তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তবে আদালত একইসঙ্গে পুলিশকে তদন্তে কোনওরকম শৈথিল্য না দেখানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ: বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য বিশেষ পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এভাবে প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক প্রচারের আড়ালে এটি ছিল এক পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন:

  • ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও লোগো ব্যবহার করার অনুমতি কে দিয়েছিল?

  • পুজো মণ্ডপে আয়োজকদের বিশেষ প্রবেশাধিকার পাওয়ার নেপথ্যে কী কারণ ছিল?

  • সংগৃহীত মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং তার উৎস কী?

আদালতের নির্দেশ:

  • ৮ জুলাইয়ের ডেডলাইন: আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্য পুলিশকে তদন্তের বিস্তারিত অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

  • অন্তর্বর্তী সুরক্ষা: আগামী দুই সপ্তাহ ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ—তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যেকোনো জিজ্ঞাসাবাদের পথ খোলা রাখতে পারবে।

আইনি লড়াই: ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর দাবি, এটি কোনো বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান ছিল না। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ—টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিই এখন এই মামলার আসল কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ইউনেস্কোর মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি জড়িত থাকায়, এই অভিযোগকে আদালত মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না।