আল-ফলাহ কাণ্ডের জের! চিকিৎসকদের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র, মেডিক্যাল কলেজে আসছে নতুন আইন

দেশের মেডিক্যাল কলেজ এবং কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য নতুন, কঠোর আচরণবিধি আনতে চলেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। কর্মক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ বা দেশবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে এবং চিকিৎসকদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক নির্দেশিকা তৈরি হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের গ্রেফতারের ঘটনা। ধৃতদের বিরুদ্ধে জইশ-ই-মহম্মদ যোগের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এনএমসি-র এথিক্স এবং মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বোর্ড এই নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে, যা দেশের প্রতিটি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। সেখানে দায়িত্ববোধ, পেশাগত আচরণ এবং জাতীয় স্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের মতো বিষয়গুলি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

সন্ত্রাসের ‘ঘাঁটি’ আল-ফলাহ? ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্ত দল বা SIT গঠন করেছে ফরিদাবাদ পুলিশ। তদন্তের ইঙ্গিত, আল-ফলাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি চরমপন্থী মডিউলের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করছিল। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এনএমসি-র এক শীর্ষ কর্তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আল-ফলাহ মেডিক্যাল কলেজের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে চলতি তদন্তের ওপর। তাঁর কথায়, “হরিয়ানা সরকার ও কেন্দ্রের মতামত দেখেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।” হরিয়ানা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আইন অনুযায়ী, আল-ফলাহ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি স্বীকৃত মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে বহাল থাকবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকারই।

অন্যদিকে, আর্থিক তছরুপের মামলায় ইডি (ED) আল-ফলাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও চলছে জোর তল্লাশি।

ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আশ্বাস
যদিও ২০১৯ সালে অনুমোদন পাওয়া আল-ফলাহ মেডিক্যাল কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৫০টি এমবিবিএস আসন ইতিমধ্যেই পূর্ণ। ফলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হলেও এনএমসি দ্রুত আশ্বস্ত করেছে। কমিশনের বক্তব্য, “দোষী নন এমন কোনও মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।”

তবে, এই নতুন আচরণবিধি জারির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষায় শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক কঠোর বার্তা দিতে চাইছে কেন্দ্র।