আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝেই অসাধ্য সাধন! মাঝ সমুদ্রে মার্কিন নৌবাহিনীকে রুখে দিল ভারত? জানলে অবাক হবেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া অবরোধের মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। ইরান ও আমেরিকার তীব্র সংঘাতের জেরে যখন কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে হরমুজ প্রণালী, ঠিক সেই সময় সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে নিরাপদে বেরিয়ে এল ভারতীয় এলপিজি বহনকারী জাহাজ ‘এমটি সার্ভ শক্তি’। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে এক বিরাট স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে জয়যাত্রা

ইরানের বন্দরগুলোর চারপাশে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি ও অবরোধ জারি রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোদ তাঁর দেশের নৌবাহিনীকে ওই অঞ্চলে ‘দস্যুর মতো’ আচরণের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন। অন্যদিকে, ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য কোনও জাহাজকে সহজে যাতায়াত করতে দেবে না। এই দুই মহাশক্তির স্নায়ুযুদ্ধের মাঝখান দিয়েই ৪৬,৩১৩ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে বেরিয়ে এল মার্শাল আইল্যান্ডস-নিবন্ধিত এই ভারতীয় জাহাজটি।

স্বস্তিতে দেশের হেঁশেল

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে রয়েছেন ১৮ জন ভারতীয়সহ মোট ২০ জন নাবিক। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি বন্দর থেকে রওনা দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ রান্নার গ্যাস আগামী ১৩ মে বিশাখাপত্তনম বন্দরে পৌঁছনোর কথা। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়। এই পথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতে এলপিজি সরবরাহে বড়সড় ঘাটতি ও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ‘সার্ভ শক্তি’-র এই সফল যাত্রা সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমিয়ে দিল।

কেন চিন্তায় ছিল ভারত?

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বাণিজ্যিক ও ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যদি দীর্ঘকাল বন্ধ থাকে, তবে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই সংকটজনক সময়ে ভারতীয় জাহাজটি নিরাপদে বেরিয়ে আসায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকার জোরালো আশা দেখা দিয়েছে।