‘আমাদের এই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে!’ খোদ মন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানে

পাকিস্তানে শাসনব্যবস্থার মডেল নিয়ে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। ‘ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির এই মন্তব্যটি বর্তমানে পাকিস্তানজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক পরিবর্তন ও নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে সেনা ও সরকারের মধ্যে কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য ও সেনার প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা দেশের সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ অক্ষম। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া পাকিস্তান আগামী দশকেও একই সংকটের মুখোমুখি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা যে ব্যবস্থার অধীনে বাস করি তা ভেঙে পড়েছে।” এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন ওঠে যে, প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে সামরিক বাহিনী ও সরকারের মধ্যে কোনো ভিন্নমত রয়েছে কি না। এই বিতর্কের মাঝে আসরে নামে সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর (ISPR)। আইএসপিআর-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নতুন প্রদেশ গঠন বা প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করা সেনাবাহিনীর বিশেষাধিকার নয়, বরং তা জনগণ এবং নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে অভিহিত করে তিনি জানান, এসব সিদ্ধান্ত সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া উচিত।

সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, সুশাসন পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন এবং প্রদেশে সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। সরকার ও বিরোধী দলসহ সব প্রধান রাজনৈতিক দল জাতীয় কর্মপরিকল্পনার ১৪ দফায় একমত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সবমিলিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এবং সেনার এই স্পষ্ট বার্তার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।