বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ফের অস্থিরতার কালো মেঘ। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝে ভারত যে রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভর করে স্বস্তিতে ছিল, তাতে জল ঢেলে দিতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১৯ এপ্রিলের পর থেকে ইরান ও রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ছে না। আমেরিকার এই একতরফা সিদ্ধান্তে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯ এপ্রিলের পর কী বদলাবে?
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হোয়াইট হাউস আর এই সাধারণ লাইসেন্সগুলোর মেয়াদ নবীকরণ করবে না।
রুশ তেল: ১২ মার্চের আগে বোঝাই করা কার্গোগুলো ৩০ দিনের যে ছাড় পেয়েছিল, তা ইতিপূর্বেই শেষ হয়েছে।
ইরানি তেল: ইরানের তেলের ওপর থাকা পৃথক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৯ এপ্রিল। এর ফলে গত মাসে ভারত যেভাবে রেকর্ড পরিমাণ (দৈনিক ১.৯৬ মিলিয়ন ব্যারেল) রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছিল, তাতে এবার রাশ টানতেই হবে।
ভারতের ‘প্ল্যান বি’: বিকল্প তেল আসবে কোথা থেকে?
ভারত সরকার আগে থেকেই জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, ভারত এখন ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করতে সক্ষম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ভারতের নজর এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে:
লাতিন আমেরিকা: তালিকার শীর্ষে আছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ইক্যুয়েডর।
নতুন রফতানিকারক: বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে উঠে আসছে গায়ানা।
আফ্রিকা ও আমেরিকা: নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলা থেকে তেল আমদানি বাড়তে পারে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ‘শেল অয়েল’ ক্রয়ের পরিমাণও বাড়াতে পারে ভারতীয় সংস্থাগুলো।





