রাজনীতি আর অপরাধ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (Election 2026) এই বিতর্কিত বাক্যটিকেই ফের সত্যি প্রমাণ করল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট। প্রথম দফার নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে যে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সুস্থ গণতন্ত্রের বদলে পেশিশক্তি ও হিংসার চর্চায় মত্ত রাজনৈতিক দলগুলো।
দাগি প্রার্থী দেওয়ায় শীর্ষে বিজেপি!
এডিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম দফায় অপরাধী বা ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকি সব দলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।
বিজেপি: ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের (৭০ শতাংশ) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ জনের বিরুদ্ধে অতি-গুরুতর অপরাধের অভিযোগ।
তৃণমূল কংগ্রেস: ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জনের (৪৩ শতাংশ) বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
সিপিআই(এম): ৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৩ জনের (৪৪ শতাংশ) বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
কংগ্রেস: ১৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
রক্তমাখা ইতিহাস ও নারী নির্যাতনের ছায়া
নির্বাচনে লড়ছেন এমন প্রার্থীদের অপরাধের তালিকা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। এবারের প্রথম দফায়:
সরাসরি খুনে অভিযুক্ত: ১৯ জন প্রার্থী (IPC ৩০২ ধারা)।
খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত: ১০৫ জন প্রার্থী।
নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত: ৯৮ জন প্রার্থী।
ধর্ষণে অভিযুক্ত: ৬ জন প্রার্থী (IPC ৩৭৬ ধারা)।
ভোটের প্রচারে সব দলই নারী সুরক্ষাকে ঢাল করলেও, প্রার্থী নির্বাচনে সেই নীতিবোধের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যায়নি।
কেন দাগিদেরই পছন্দ দলগুলোর?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শ বা নীতির চেয়ে এখনকার নির্বাচনে ‘উইনেবিলিটি’ বা জেতার ক্ষমতাই শেষ কথা। অর্থবল এবং বাহুবলের জেরে নির্বাচনে জেতার ক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের অতীত ইতিহাস রক্তমাখা হলেও টিকিট দিতে দ্বিধা করছে না রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও দলগুলোর দাবি, এগুলির বেশিরভাগই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র কারণে দেওয়া মিথ্যে মামলা।





