“আমি অনুতপ্ত নই, জেলে যেতে প্রস্তুত!”-সুপ্রিম কোর্টে ‘ব্যান’ হলেন সেই আইনজীবী

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটানোর পর অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA)। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনজীবী রাকেশ কিশোরকে অ্যাসোসিয়েশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর এন্ট্রি কার্ডও বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলো।

সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর আদালতে শুনানি চলাকালীন আচমকাই এই ঘটনাটি ঘটে। এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

‘দৈবশক্তি ভর করেছিল’ ও ‘অনুশোচনা নেই’
এই ঘটনার সময় অভিযুক্ত আইনজীবী রাকেশ কিশোর চিৎকার করে বলছিলেন, “সনাতন ধর্মের উপরে আঘাত দেশ মেনে নেবে না।” ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছিল।

তবে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরেও ৭২ বছর বয়সী রাকেশ কিশোর দাবি করেছেন, তিনি অনুশোচনা বোধ করছেন না। বরং তিনি জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে তিনি বলেন, তাঁর উপরে নাকি দৈবশক্তি ভর করেছিল।

রাকেশের দাবি, সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, “যান, ভগবানকে গিয়ে বলুন।” খাজুরাহোর একটি ভগ্নপ্রায় বিষ্ণুমূর্তি সংস্কার ও প্রতিষ্ঠার দাবিতে করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে তাঁর ভাবাবেগে আঘাত লেগেছিল।

বার অ্যাসোসিয়েশনের কড়া বার্তা
এই ঘটনার পর রাকেশ কিশোরের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল বার অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই ধরনের নিন্দনীয়, উচ্ছৃঙ্খল এবং অসংযমী আচরণ আদালতের একজন অফিসারের জন্য সম্পূর্ণরূপে অশোভন। তা পেশাদারিত্ব, নীতি, ভদ্রতা এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদার লঙ্ঘন।”

যদিও রাকেশের পরিবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং জনসমক্ষে বেরোতে লজ্জা পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।