‘আমার রুদ্র রূপ দেখতে হবে’, পলাতক হয়েও ফেসবুক লাইভে হুমকি মূল অভিযুক্ত মিনি ফিরোজের!

গুলশন কলোনিতে অস্ত্র হাতে তাণ্ডবের ঘটনার চার দিন পরেও মূল অভিযুক্ত ফিরোজ খান ওরফে মিনি ফিরোজকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। অথচ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সে নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। ফেসবুক লাইভ এবং ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে সে শুধু নিজের অবস্থানই জানাচ্ছে না, রীতিমতো কাউন্সিলরকেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

পুলিশ যাকে পলাতক বলছে, সেই মিনি ফিরোজ নিজেই এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়েছে যে, সে কাজের জন্য বাইরে এসেছে এবং কাজ শেষ হলেই কলকাতায় ফিরে যাবে। ফেসবুক পোস্টে সে বলেছে, “এখনও পর্যন্ত আমার শান্ত রূপ দেখেছেন। আশা করব, আমার রুদ্র রূপ যেন দেখতে না হয়। অন্যথা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আফসোস করতে হবে।”

এমনকি, কাউন্সিলর সুশান্ত কুমার ঘোষকে সরাসরি হুমকি দিয়ে সে বলে, “আমাকে অ্যান্টি সোশাল বলছেন? মনে আছে কিছু? ভোটের সময় অ্যান্টি সোশালকে নিয়ে ঘুরতেন আপনি। আমার সঙ্গে সোজা কথা বলবেন আমি সোজা। বাঁকা কথা বললে আমি ভীষণ বাঁকা।” সে আরও জানায়, তার পেছনে কলকাঠি নাড়লে তার কাছে থাকা কিছু গোপন তথ্য সে ফাঁস করে দেবে।

এ ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এদের গ্রেফতার হওয়া উচিত। এরা সভ্য সমাজের মানুষ নয়। এদের জেলের ভিতরে থাকা উচিত।” একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “এত পুলিশ নেই যে প্রতিটা গলিতে পুলিশ দাঁড় করিয়ে দেওয়া যায়।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “Enough is Enough, It’s time to Act—তিন-চার লাইন ইংরাজি বলে হয়ে গেল? আপনার সহকর্মী… আপনার বোরো চেয়ারম্যানের নামের আগে চন্দ্রবিন্দু যোগ হয়ে যেত, যদি বন্দুকটা কাটমানির না হত।”

এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের খাতায় পলাতক হয়েও অভিযুক্ত কীভাবে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন।