“আমন্ত্রণ ছিল, মন্ত্রীদের সঙ্গে বসার ব্যবস্থাও”-স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় এলেন না কেন রাহুল?

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল দিল্লির লালকেল্লা। আমন্ত্রিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা থেকে শুরু করে অলিম্পিক পদকজয়ীরাও। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই জমকালো সরকারি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রইলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। প্রটোকল অনুযায়ী বিশেষ আসন বরাদ্দ থাকলেও পরপর দু’বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেলেন রাহুল।

ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের পাশেই আসন, তবুও কেন গরহাজির?

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা পাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ঠিক পরেই রাহুল গান্ধীর বসার আসন নির্ধারিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি লালকেল্লার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। একইভাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসে রাহুল গান্ধীর বসার আসন বিন্যাস নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। সেবার বিরোধী দলনেতাকে দ্বিতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে একে ‘অপমানজনক’ বলেছিল কংগ্রেস। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সেসময় সাফ জানানো হয়েছিল যে, প্যারিস অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণকারী দেশের কৃতি অ্যাথলিটদের সামনের সারিতে বসানোর জন্যই আসন বিন্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার পর থেকে আর লালকেল্লার সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি রাহুল গান্ধীকে।

উত্তপ্ত অধিবেশন ও বয়কটের আবহ

চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগেই শেষ হয়েছে সংসদের দীর্ঘ বাদল অধিবেশন। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিল সহ মোট ১২টি বিল এই অধিবেশনে পাশ হলেও, সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ চত্বর। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী চা-চক্রও বয়কট করেছিল কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি। এমন এক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই লালকেল্লার অনুষ্ঠান থেকে রাহুল ও খাড়্গীর এই দূরত্ব বজায় রাখা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।