আপত্তিকর অবস্থায় দেখার খেসারত! হিমাচলে প্রৌঢ়কে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার প্রেমিক যুগল

হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার পাওটা সাহিব এলাকায় এক ৫৪ বছর বয়সি প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিশ্বকর্মা চক এলাকায় ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের জেরে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তির নাম ভব সিং ঠাকুর, যিনি সিরমৌর জেলার আওয়াত গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় সবজি বিক্রেতা ভব সিং প্রতিদিন সকালে নাহান থেকে সবজি কিনে নিজের গ্রাম ও শিলাই তহসিলের কাফোটা বাজারে বিক্রি করতেন। পরিবারের দাবি, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে কারোর কোনো শত্রুতা বা বিবাদ ছিল না, যা এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং তার ভিত্তিতেই দ্রুত মামলার জট খোলে। ধৃত দুই অভিযুক্তের পরিচয় ২১ বছর বয়সি মোহাম্মদ আমির ওরফে ফগ্গু এবং ২৯ বছর বয়সি রেখা ওরফে অন্নু হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। দুজনেই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মৃত ভব সিং অভিযুক্ত ওই যুবক ও মহিলাকে কোনো এক আপত্তিকর পরিস্থিতিতে দেখে ফেলেছিলেন। আর সেই গোপন দৃশ্য দেখার জন্যই তাঁদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ শুরু হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্বপরিচয় ছিল বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা মন্দিরের কাছের একটি পার্কিং এলাকায় ভব সিংয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলার পর মারাত্মক জখম অবস্থায় গলায় আঘাত নিয়েই কোনোমতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন ভব সিং। পার্কিং এলাকা থেকে শুরু করে মন্দিরের গেট পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ মেলায় তাঁর এই পালানোর চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মন্দিরের গেটের কাছেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা ও মৃতের পরিবার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিশ প্রশাসন। সিরমৌর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) নরেন্দ্র শর্মা এবং পাওটার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) মনবেন্দ্র ঠাকুর যৌথভাবে পুরো ঘটনার তদন্তের তদারকি করছেন। ডিএসপি মনবেন্দ্র ঠাকুর জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও নিবিড় তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।