আড়াই বছরের শিশুকে অপহরণ করে মাথায় পেরেক ঠুকে নৃশংস হত্যা! শোকের ছায়া ভাগলপুরে

বিহারের ভাগলপুর জেলার নাথনগর থানার লালুচক এলাকায় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আড়াই বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক পুরনো শত্রুতার প্রতিশোধ নিতেই দুষ্কৃতকারীরা এই পৈশাচিক অপরাধ ঘটিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যে বাড়িতে শিশুর জন্মের আনন্দ উৎসব চলছিল, সেই বাড়িই এখন শোকের সাগরে নিমজ্জিত।

নিহত শিশুটির বাবা পঞ্চু মণ্ডল জানান, মঙ্গলবার বাড়িতে তাঁর তৃতীয় সন্তানের জন্মের উপলক্ষে ‘ছঠি’ উৎসব পালন করা হয়। বাড়িতে প্রচুর অতিথি থাকায় জায়গার অভাবে তিনি তাঁর আড়াই বছরের মেজো ছেলে আদিত্য কুমারকে নিয়ে বাড়ির কাছের মহাবীর মন্দিরের চত্বরে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে বা বুধবার ভোরের দিকে, যখন বাবা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা পাশ থেকে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায়। ভোর চারটার দিকে ঘুম ভাঙলে বাবা দেখেন আদিত্য পাশে নেই। তড়িঘড়ি নাথনগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বুধবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির কাকা শ্রীরামপুর ঘাটে গিয়ে দেখেন, নদীতে একটি শিশুর দেহ ভেসে রয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় দেহটি উদ্ধার করার পর সেটি আদিত্যের বলে শনাক্ত হয়। দেহটি উদ্ধারের পর যা দেখা গেল, তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অপরাধীরা এই নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতে গিয়ে নিষ্ঠুরতার সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিল। শিশুটির কপালে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ডান চোখের কাছে ছিল গভীর ক্ষতচিহ্ন। প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষার ধারণা, কপালে পেরেক ঠুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক শত্রুতা বা ‘গোটিয়া’ পরিবারের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন নিহতের বাবা পঞ্চু মণ্ডল। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল এবং ছঠি উৎসবের দিনই তাঁকে চরম পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শোকাতুর।

ঘটনার খবর পেয়ে সিটি ডিএসপি-২ রাকেশ কুমার, নাথনগর থানার পুলিশ, ফরেনসিক দল এবং ডগ স্কোয়াড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অপহরণের মামলাটিকে এখন খুনের মামলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিটি ডিএসপি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোটা এলাকায় এখন শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।