উর্দি খুলে ভোটে লড়ুন! পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ফজলুর রহমানের

কিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের আবহে ফের একবার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। সেনার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আসিম মুনিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “সেনাবাহিনী যদি রাজনীতিতে জড়াতেই চায়, তবে উর্দি খুলে নিজেদের দল গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে জনগণ আপনাদের কত ভোট দেয়।”

মাওলানা ফজলুর রহমানের দাবি, রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি সেনাবাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সংসদ থেকে প্রতিটি বিভাগেরই নিজস্ব সাংবিধানিক সীমা রয়েছে। সেনাবাহিনীর কাজ হলো দেশ রক্ষা করা, রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা নয়। কে সরকার গড়বে আর কাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আপনাদের নয়।” ফজলুর রহমানের মতে, সেনার এই হস্তক্ষেপই পাকিস্তানকে এক চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেখানে বাস্তবে কোনো সরকার নেই। সূর্যাস্তের পর পুলিশ তাদের থানা ছাড়তে ভয় পায়। যখন আইনরক্ষকরাই নিজেদের বাঁচাতে থানায় বন্দি থাকে, তখন রাস্তাঘাট ডাকাত ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে চলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।” পশতুন ও বেলুচ অঞ্চলের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “পুরো বেলুচিস্তান আজ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পশতুন অঞ্চল এখন রক্তে ভাসছে। দুই-তিন দিনে আমরা পঞ্চাশটিরও বেশি মৃতদেহ পেয়েছি। বাজার থেকে আমরা শুধু আমাদের প্রিয়জনদের জন্য কাফন কিনছি।”

নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফজলুর রহমান বলেন, “এটাই কি পাকিস্তানের জনগণের নিয়তি? আমার সন্তান স্কুলে যেতে পারে না, একজন সাধারণ দিনমজুর কাজে যাওয়ার সাহস পায় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই।” সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে বেসামরিক নাগরিকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার ধারণাকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এটি মিলিশিয়া গঠন নয়, বরং ব্যক্তিগত শত্রুতা ও নতুন করে রক্তপাতের ক্ষেত্র তৈরি করা।

পরিশেষে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনারা পাকিস্তানকে পারস্পরিক শত্রুতা, হত্যা ও লুণ্ঠনের পথে ঠেলে দিচ্ছেন, যার ক্ষত কয়েক প্রজন্ম ধরে বয়ে বেড়াতে হবে। আমাদের এই ধরনের রাজনীতি শেখানোর চেষ্টা করবেন না। ক্ষমতার দম্ভে আপনারা যাকে খুশি সরকার হস্তান্তর করছেন, আবার কেড়ে নিচ্ছেন—এটা হতে পারে না।” ফজলুর রহমানের এই বিস্ফোরক বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্থিরতাকে আবারও প্রকট করে তুলল।