মাদ্রাসা না কি জঙ্গি ডেরা? হাসনাবাদ ও হাড়োয়ায় ইডির ঝটিকা অভিযান, পলাতক তৃণমূল নেতা!

সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত ও বেআইনি টাকা পাচারের অভিযোগে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS) যৌথভাবে দেশের ১৩টি স্থানে হানা দিয়েছে। এই অভিযানের আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ ও হাড়োয়া এলাকায় ইডি এবং এটিএস-এর তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, মাদ্রাসার আড়ালে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চলত এই বেআইনি কর্মকাণ্ড।
কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশ এটিএস একটি মামলার তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য আসে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেআইনি নথি তৈরি করে তাঁদের ভারতজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি বড়সড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছিল বিদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা একাংশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই ইডি পৃথকভাবে আর্থিক তদন্তে নামে।
তদন্তের সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশ এটিএস টিম সরাসরি হাজির হয় উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের ‘রামেশ্বরপুর দারুল উলুম’ মাদ্রাসায়। গোয়েন্দাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মাদ্রাসার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর ছেলে। তল্লাশি শুরু হতেই এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর পুত্র। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, অতীতেও এই নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন হয়েছে, তবে বর্তমান তল্লাশি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, হাড়োয়াতেও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ইডি তিনটি পৃথক জায়গায় অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, আবদুস সামাদ নামে এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং একটি মাদ্রাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ইডির তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আসত, যার কোনো বৈধ উৎস বা নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখতেই ইডি আধিকারিকরা এলাকাগুলিকে ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন।
গোটা এলাকা আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল দুই-ই চরমে। উদ্ধার করা নথি এবং তথ্য খতিয়ে দেখে গোয়েন্দারা এখন এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের শিকড় খোঁজার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও অস্বস্তি বাড়ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই একযোগে হানা আদতে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কত গভীরে জাল বিছিয়েছে, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।