রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নেটওয়ার্কের মূলে ইডি! ৪ রাজ্যজুড়ে ১৩টি জায়গায় বড়সড় তল্লাশি

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ইডি-র লখনউ আঞ্চলিক কার্যালয় ২০০২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে চারটি রাজ্য জুড়ে প্রায় ১৩টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ এবং তাদের আর্থিক নেটওয়ার্কের রহস্য ভেদ করতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর প্রদেশ সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড (ইউপি এটিএস) ২০২৪ সালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই মানি লন্ডারিং মামলাটি শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা, জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে আসছিল। এই অশুভ চক্রের আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতেই ইডি এই অভিযান পরিচালনা করে।
ইডি-র লখনউ শাখার দলগুলো রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় যে জায়গাগুলোতে হানা দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্লির বাটলা হাউস ও মদনপুর খাদার, উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর, মহারাষ্ট্রের রায়গড় এবং পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা ও মুর্শিদাবাদ। এই তল্লাশি অভিযান থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত আর্থিক জাল বা নেটওয়ার্কের প্রমাণ মিলেছে। ইডি-র গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন যে, বিভিন্ন দাতব্য ট্রাস্ট ও প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরবর্তীতে এই অর্থ একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি, নগদ টাকা উত্তোলন এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাণে অর্থ হস্তান্তরের একাধিক প্রমাণও তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে।
গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, উদ্ধার হওয়া নথি এবং ডিজিটাল তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পুরো নেটওয়ার্কের মূল মাথা কারা, তহবিলের উৎস কী এবং এই অবৈধ অর্থ দেশের কোন কোন নাশকতামূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। ইডি-র এই অভিযান অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আশ্রয়দাতা ও মদতদাতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এই তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইডি-র এই বিশেষ তদন্ত অভিযান আপাতত অব্যাহত রয়েছে এবং শীঘ্রই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বড় নামগুলো প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।