আইটিআর দাখিলের নতুন নিয়ম! ৩১ জুলাইয়ের আগে না জানলে বড় বিপদে পড়তে পারেন

আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের মৌসুম শুরু হয়েছে এবং এবারের মরসুমটি করদাতাদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। যদিও সরকার আয়কর আইন, ২০২৫ কার্যকর করেছে, তবুও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (FY26) জন্য আইটিআর দাখিল পদ্ধতিটি এখনও আয়কর আইন, ১৯৬১-এর আওতায় পরিচালিত হবে। তবে, রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ, ফর্মের বিন্যাস এবং রিপোর্টিং নিয়মে আসা পরিবর্তনগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সঠিক নিয়ম না জানলে রিটার্ন খারিজ হওয়া বা জরিমানার মুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আইটিআর দাখিলের নতুন সময়সীমা
বেতনভোগী কর্মী এবং যাঁরা ITR-1 বা ITR-2 দাখিল করেন, তাঁদের জন্য শেষ তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৬। অন্যদিকে, ITR-3 এবং ITR-4 ফাইলকারীদের (যাঁদের অডিট প্রয়োজন নেই) জন্য সময়সীমা ৩১ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে সময় থাকতেই রিটার্ন ফাইল করা বুদ্ধিমানের কাজ।

ফর্ম ও নিয়মে বড় পরিবর্তন
এবার আইটিআর ফর্মে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুটি স্ব-অধিকৃত বাড়ির মালিকরা এখন ITR-1 বা ITR-4 দাখিল করতে পারবেন। অনাদায়ী ভাড়ার হিসাব জানানোর জন্য ফর্মে নতুন কলাম যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, বাজেট ২০২৪-এর নতুন ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স নিয়ম অনুসারে ফর্মগুলো আপডেট করা হয়েছে।

এফঅ্যান্ডও ও ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের জন্য সতর্কতা
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ট্রেডারদের জন্য। এবার থেকে F&O বা ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং করলে ITR-1 বা ITR-2-এর বদলে ITR-3 দাখিল করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। যদি আপনি ধারা 44AD-এর অধীনে প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন স্কিম বেছে নেন, তবেই কেবল ITR-4 ফাইল করতে পারবেন। ভুল ফর্ম বেছে নিলে রিটার্ন ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন নিয়মে ট্রেডারদের টার্নওভার, মজুত পণ্যের হিসাব, সরাসরি খরচ এবং লাভ-ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে।

দান ও বিদেশী অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিয়ম
ধারা 80GGC-এর অধীনে রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদানের ওপর ছাড় নিতে হলে, এখন সেই দলের নাম ও প্যান কার্ডের নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া, বিদেশে অবসরকালীন অ্যাকাউন্ট থাকা আবাসিক করদাতারা ITR-1 বা ITR-4-এ ধারা 89A-এর সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।

সতর্ক হোন ছোটখাটো ভুল নিয়েও
আয়কর বিভাগ এখন উন্নত প্রযুক্তি এবং রিয়েল-টাইম ডেটা যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফলে তথ্যের অমিল বা অনুপস্থিতি এখন চোখের নিমেষে ধরা পড়বে। তাই রিটার্ন দাখিলের আগে ফর্ম-২৬এএস (Form 26AS) এবং এআইএস (AIS) স্ট্যাটাস মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসাবধানতা আপনাকে আয়কর দপ্তরের নোটিশের মুখে ফেলতে পারে। সুতরাং, সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে তবেই আইটিআর সাবমিট করুন।