আইএসআই যোগ? দিনহাটা থেকে পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার ৩, চলছে তদন্ত

পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে কোচবিহারের দিনহাটা থেকে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধৃতদের নাম রশিদুল হক, নাসিরুদ্দিন আলি এবং মহম্মদ শফিকুল ইসলাম। গত শুক্রবার তাঁদের দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক বাংলাদেশি সিম কার্ড এবং জাল ভারতীয় নোট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃতদের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হতো। শুধু তাই নয়, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাজস্থান সীমান্তেও ফোন করা হতো বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। তবে ধৃতেরা আদৌ আইএসআই-এর হয়ে কাজ করতেন কি না, কিংবা এই পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করতে নারাজ পুলিশ।

তদন্তের কেন্দ্রে সীমান্ত পারের নেটওয়ার্ক

উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমায় এই গ্রেফতারির ফলে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সীমান্ত পারের কোনো বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেটাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

কেন ধৃতদের কাছে বাংলাদেশি সিম কার্ড ছিল, সেগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই সিম ব্যবহার করে সুনির্দিষ্টভাবে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া জাল ভারতীয় নোটগুলির উৎস কোথায় এবং সেগুলি কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তারও বিশদ তদন্ত চলছে। রাজস্থান সীমান্তে ফোন করার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান করা হতো, তা জানতে ধৃত তিনজনকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা প্রয়োজন বলে মনে করছে এসটিএফ।

সীমান্তবর্তী রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ অতীতেও রাজ্যে আইএসআই বা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সন্দেহভাজন চর বা নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের বাকি শেকড় সন্ধান করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।