আইএসআই ও জঙ্গি যোগে চাঞ্চল্যকর মোড়! ধৃত রানা রউফকে জেরা করতে ময়দানে নামল সরাসরি এনআইএ

সন্দেহভাজন জঙ্গি কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগের গুরুতর অভিযোগে ধৃত রানা রউফকে ঘিরে তদন্তে এ বার ব্যাপক তৎপরতা বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছে এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। রানা কার কার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, তাঁর গোপন গতিবিধি কোথায় কোথায় ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ঠিক কী কী শক্ত প্রমাণ বা তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে—সেই সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখছেন এনআইএ-র অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের নিরিখে নজরে শুধু রানা রউফ একা নন, বরং তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক ভূমিকা এবং তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগের গোপন ধরনও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে যে সমস্ত তথ্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী বৃহত্তর তদন্তের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে এনআইএ। অর্থাৎ, কেবল একজন অভিযুক্তকে কেন্দ্র করে তদন্তের গণ্ডি সীমাবদ্ধ না রেখে, এই বিশাল অপরাধমূলক যোগাযোগের জালটি ঠিক কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর পেছনে দেশবিরোধী কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটাই এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের বিশেষ নজর রয়েছে ধৃত রানা রউফের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমগুলির ওপর। কার সঙ্গে ঠিক কত বার কথা হয়েছিল, কোন মাধ্যমে কী ধরনের সংবেদনশীল বার্তা আদানপ্রদান করা হতো, কোনো গোপন বা সন্দেহজনক নম্বর বা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না—সবকিছুই প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের আইএসআই-এর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ মেলে কি না, যোগাযোগ হয়ে থাকলে তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং দেশের কোনো গোপন তথ্য পাচার করা হয়েছিল কি না, সেই প্রতিটি কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রানা রউফের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে সন্দেহ করা ইজাজ নামের অপর এক ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের কড়া আওতায় আনতে চলেছে এনআইএ। খুব শীঘ্রই এই দু’জনকে একসঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। এমনকি তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে রানা ও ইজাজকে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর মিলেছে। এই দুই অভিযুক্তের মধ্যে ঠিক কী ধরনের গোপন যোগাযোগ ছিল, তাঁদের কথোপকথনের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল এবং তাঁদের দেশবিরোধী গতিবিধির মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা বের করাই এই জিজ্ঞাসাবাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি, রানা ও ইজাজের সঙ্গে দেশের ভেতরের বা বাইরের অন্য কোনো উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগসাজশ ছিল কি না, সেই তথ্যও সমান্তরালভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা মামলার অফিসিয়াল নথি এবং জেরায় পাওয়া তথ্যও এনআইএ-র তদন্তে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক, বিভিন্ন নথি বা অন্য কোনো সামগ্রীর ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের তদন্তে পাওয়া সূত্রগুলো মিলিয়ে দেখার কাজও শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, তদন্তকারীদের জোরালো ধারণা যে, এই বিক্ষিপ্ত সূত্রগুলোকে সঠিকভাবে এক জায়গায় আনতে পারলে অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি সম্পর্কে আরও অনেক স্পষ্ট ও চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসবে।