অ্যালোভেরা-অলিভ অয়েলে কি ক্যানসার সারে? মিথ্যে দাবির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সরকারের

অ্যালোভেরা বা অলিভ অয়েলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ত্বক ও চুলের যত্নে দারুণ কার্যকর, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই উপাদানগুলোকে যদি ‘ক্যানসার বা ডায়াবেটিস নিরাময়ের অব্যর্থ ঔষধ’ বলে দাবি করা হয়, তবে তা শুধু মিথ্যে নয়, রীতিমতো প্রতারণা। সম্প্রতি এমন সব ভিত্তিহীন দাবির বিরুদ্ধে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার ১৬টি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন (এফডিসি) বা নির্দিষ্ট ওষুধের সংমিশ্রণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, বাজারে এমন কিছু ওষুধের সংমিশ্রণ বিক্রি হচ্ছে যেগুলোর কোনো চিকিৎসাগত যৌক্তিকতা নেই। দেখা গেছে, অনেক ব্র্যান্ড সাধারণ ত্বকের যত্নের ক্রিম বা তেলকে ‘ওষুধ’ হিসেবে বিজ্ঞাপণ দিচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে ব্রণ-প্রবণ ত্বকে অলিভ অয়েলের মতো ঘন তেল ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।

প্রতারণার ফাঁদ চিনুন: অনেক বিক্রেতা অ্যালোভেরা ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণকে গাঁটের ব্যথা, ডায়াবেটিস বা ক্যানসার নিরাময়ের ‘জাদুকরী উপায়’ হিসেবে প্রচার করছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে:

  • অ্যালোভেরা ও অলিভ অয়েল ত্বকের বাইরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ভালো।

  • এগুলো কোনো অভ্যন্তরীণ বা গুরুতর রোগের নিরাময় নয়।

  • সাধারণ ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারকে ওষুধের ছদ্মবেশে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা একটি আইনত অপরাধ।

কোন ওষুধগুলো নিষিদ্ধ হলো? হাইকোর্টের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৬টি এফডিসি ওষুধের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ ও সরবরাহ অবিলম্বে নিষিদ্ধ করেছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে:

  • বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক-ভিত্তিক সংমিশ্রণ (যেমন—অ্যামোক্সিসিলিন ও সেরাটিওপেপটাইডেজ)।

  • ইথোহেপ্টাজিনের সাথে অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক অ্যাসিড।

  • প্যারাসিটামল ও লিগনোকেইনের মতো কিছু নির্দিষ্ট সংমিশ্রণ।

  • কিছু স্কিন কেয়ার ফর্মুলা যেখানে ভিটামিন ই, জোজোবা অয়েল, এবং বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় মেশানো ছিল।

নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা: সরকার স্পষ্ট করেছে, যেকোনো ধরনের গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে হাতুড়ে বা অপ্রমাণিত উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সবসময় স্বীকৃত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনো ব্র্যান্ড যদি এমন কোনো দাবি করে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, তবে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। আসল অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে অনেক ব্র্যান্ড এখন সস্তা সুগন্ধি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে, যা ত্বকের অ্যালার্জি বা সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো ওষুধ বা স্কিন কেয়ার পণ্য কেনার আগে তার উপাদানগুলো ভালো করে দেখে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।