২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই চরম সংকটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে যেমন নবনির্বাচিত বিধায়ক এবং সাংসদদের বিদ্রোহে দল কার্যত দ্বিধাবিভক্ত, অন্যদিকে তেমনই দলের বিপুল সম্পত্তির মালিকানা ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই কঙ্কালসার চেহারা এখন দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও অভিষেকের পাশে থাকায় দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে। দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ৬৮১.১ কোটি টাকা রয়েছে ব্যাংকে, ২৫০.৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রায় ৭ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি দল ভেঙে যায়, তবে এই বিপুল অর্থের প্রকৃত দাবিদার কে হবে?
পরিসংখ্যান বলছে, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছেন। অন্যদিকে, লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন বলে খবর। যদিও গরিষ্ঠতা এখনও প্রমাণিত হয়নি, তবে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের দ্বারস্থ হলে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়বে দল। অতীতে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র মতো দলগুলি যেভাবে ভেঙেছে, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এদিকে, তৃণমূলের এই চরম দুঃসময়ে মমতার পুরোনো দল কংগ্রেসে ফেরার জল্পনাও তুঙ্গে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ার পর এবার কি মমতা সেখানেই ফিরবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি তৃণমূলের বড় অংশ দল ছাড়েন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্বীকৃতি পায়, তবে দলের প্রতীক ও তহবিল—উভয়ই হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বর্তমানে দলীয় সব কমিটি ভেঙে দিয়ে মমতা নিজের হাতে রাশ রাখার চেষ্টা করলেও, এই ভাঙন রোখা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।





