অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল ৪ ছাত্র, ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ, হেলিকপ্টারে চড়ে পরীক্ষা দিতে গেল তারা

উত্তরাখণ্ডে লাগাতার বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলেও জীবনের গতি থামেনি। এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল মুনসিয়ারিতে। পরীক্ষা দিতে না পারলে একটি গোটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে, তাই ঝুঁকি নিয়ে হেলিকপ্টারে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাল চারজন ছাত্র। তাদের এই সাহসিকতার প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ গোটা দেশ।

রাজস্থানের বালোত্রা থেকে চার ছাত্র উত্তরাখণ্ড ওপেন ইউনিভার্সিটির বি.এড. পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের চূড়ান্ত সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল মুনসিয়ারির আর.এস. টোলিয়া পিজি কলেজে। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে হালদওয়ানি থেকে মুনসিয়ারির রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ যানবাহনে সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। ট্যাক্সি চালকরাও তাঁদের নিয়ে যেতে রাজি হননি।

হেলিকপ্টারে পাড়ি
ওমারাম চৌধুরী, মাগারাম চৌধুরী, প্রকাশ চৌধুরী ও লাকি চৌধুরী—এই চার ছাত্র তখনই হেলিকপ্টার পরিষেবার কথা জানতে পারেন। তারা হেরিটেজ এভিয়েশনের সিইও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যার কথা জানান। মানবিক কারণে সংস্থাটি বিশেষ ব্যবস্থায় দুজন পাইলট-সহ একটি হেলিকপ্টার পাঠায়। সড়কপথে যেখানে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে মাত্র ২৫-৩০ মিনিটের যাত্রায় তারা নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান।

সার্থক হল উদ্যোগ
পরীক্ষা নির্বিঘ্নে দিতে পেরে ছাত্রদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এক ছাত্র ওমারাম চৌধুরী বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, পুরো বছরটাই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু হেলিকপ্টার পরিষেবার জন্য আমরা পরীক্ষা দিতে পেরেছি।” আরেক ছাত্র মাগারাম চৌধুরী জানান, “হেলিকপ্টারে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, তেমনই ছিল তৃপ্তিদায়কও।”

এই হেলিকপ্টার যাত্রায় একমুখী জনপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫,২০০ টাকা। যাতায়াত বাবদ প্রত্যেকের মোট খরচ হয় প্রায় ১০,৪০০ টাকা। তবে তাদের কাছে এই খরচটা ছিল একটি বছর বাঁচানোর মূল্য। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছা থাকলে যেকোনো বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব।