দাম্পত্য জীবন সুন্দর রাখতে কোন কোন পরামর্শ আপনি অনায়াসে উপেক্ষা করতে পারেন, জেনে নিন

প্রবাদ আছে, সাত কথার পর তবে একটি বিয়ে পরিণতি পায়। তবে সত্যি বলতে, একটি সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন কাজ। সুখী দাম্পত্যের জন্য অনেক ত্যাগ ও চেষ্টা করতে হয়। এর উপর আত্মীয়-বন্ধুদের অবাধে দেওয়া নানা পরামর্শ অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সকলের দেওয়া সব পরামর্শ মেনে নেওয়ার কোনো মানে নেই। দাম্পত্য জীবন সুন্দর রাখতে কোন কোন পরামর্শ আপনি অনায়াসে উপেক্ষা করতে পারেন, তা জেনে নিন:
১. ‘‘শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও যায় আসে না’’:
যদি কোনো বন্ধু বা আত্মীয় আপনাকে এমন পরামর্শ দেন, তবে তার থেকে সাবধান থাকুন। স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে একটি সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। যদি আপনাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে থাকে, তবে এটিকে মজবুত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তাই করুন। অন্যথায়, একঘেয়েমি ও আবেগহীনতার কারণে একটা সময় পর সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে এবং বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
২. ‘‘পরস্পরের সঙ্গে কাটানো সময়টুকু স্পেশাল করে তোলো’’:
এটি আরেকটি ভুল ধারণা। এর অর্থ দাঁড়ায়, যতবার আপনারা একসঙ্গে সময় কাটাবেন, ততবারই বিশেষ কিছু করতে হবে! হয় দারুণ রান্না করতে হবে, নয়তো কোনো বড়সড় সারপ্রাইজের ব্যবস্থা রাখতে হবে! ভেবে দেখুন, প্রতিবার এমন কিছু করা কি আদৌ সম্ভব? এর ফলে আপনারা কখনোই নিজেদের মতো করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সময় কাটাতে পারবেন না, বরং সারাক্ষণ একটি মানসিক চাপের মধ্যে থাকবেন। মাঝেমধ্যে বিশেষ কিছু করা ভালো, তবে সবসময় স্পেশাল করার চিন্তায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত সারপ্রাইজও এক সময়ে একঘেয়ে হয়ে যায়!
৩. ‘‘বাচ্চা হলেই সব ঝামেলা মিটে যাবে’’:
এর চেয়ে বড় ভুল ধারণা আর কিছু হতে পারে না! যদি আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বড় কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে শুধু সন্তান এলেই সেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সন্তানের আগমন পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই আগে নিজেদের সম্পর্কের জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা করুন। একটি দুর্বল সম্পর্কের মধ্যে সন্তান আনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
৪. ‘‘কাউন্সেলরের কাছে গিয়ে লাভ নেই’’:
এই পরামর্শটিও সম্পূর্ণ ভুল। যখন দুজন মানুষ নিজেদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন, তখন একজন নিরপেক্ষ তৃতীয় ব্যক্তি অর্থাৎ একজন সম্পর্ক বিষয়ক পরামর্শদাতা (কাউন্সেলর) অত্যন্ত সাহায্যকারী হতে পারেন। তিনি কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আপনাদের সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারেন। তাই যদি দেখেন নিজেদের চেষ্টায় কোনো ফল হচ্ছে না, তবে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ রিলেশনশিপ কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দাম্পত্য জীবন একটি দীর্ঘ যাত্রা। এখানে উত্থান-পতন থাকবেই। তবে বাইরের ভুল পরামর্শে কান না দিয়ে নিজেদের বোঝাপড়া ও ভালোবাসার উপর ভরসা রাখুন। নিজেদের মতো করে সম্পর্ককে সুন্দর ও মজবুত করে তুলুন।