অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও জল্পনার মাঝেই মোদী সরকারের বড় সাফাই!

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (CPC) অধীনে বহুচর্চিত ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ এবং কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এ বিষয়ে সংসদকে এক অভিনব ও স্পষ্ট অবস্থান জানাল কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, অষ্টম বেতন কমিশনকে তাদের বৈঠক, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা কিংবা অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করার কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা নেই। রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে পারিবারিক ইউনিটের আকার ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ (নির্ভরশীল বাবা-মাকে অন্তর্ভুক্ত করে) করার মতো একাধিক জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর এই সমস্ত দাবিদাওয়া বা আলোচনার বিষয়ে সরকার কোনো মন্তব্য করবে না। সরকারের মূল যুক্তি হলো, অষ্টম বেতন কমিশন তার নির্ধারিত ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ বা কার্যপরিধির আওতায় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ পরিচালনা করে। ফলে কাজ চলাকালীন তারা কার কার সঙ্গে বৈঠক করছে বা কী ধরনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তার বিশদ বিবরণ সরকারকে জানানোর কোনো প্রয়োজন কমিশনের নেই।

রাজ্যসভায় প্রদত্ত সেই জবাবে কমিশন এ পর্যন্ত কতগুলি বৈঠক করেছে কিংবা ঠিক কোন কোন কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা সেরেছে, সে সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান বা গোপন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, গত বছরের ৩ নভেম্বর গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠনের তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র সরকারের কাছে জমা দেবে। এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো ধরনের সংশোধিত মেয়াদ ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ অত্যন্ত নির্ণায়ক একটি ভূমিকা পালন করে। নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নকালে বেসিক পে বা মূল বেতন সংশোধনের জন্য যে গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার ব্যবহার করা হয়, তাকেই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বলা হয়। যেহেতু এই ফ্যাক্টরের ওপরই কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ও পেনশন সরাসরি নির্ভর করে, তাই প্রতিবারই প্রতিটি বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি লাখ লাখ কর্মচারীর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন একাধিক প্রস্তাব পেশ করেছে। কেউ কেউ যেখানে প্রায় ৩.৬৮ বা তার কাছাকাছি একটি উচ্চ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দাবি করেছেন, আবার অন্যরা ৩.০ থেকে ৩.৫-এর মধ্যে গুণক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের সর্বশেষ অবস্থান থেকে এটা স্পষ্ট যে, কমিশন যতক্ষণ না তাদের চূড়ান্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিচ্ছে, ততক্ষণ তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সুপারিশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারি হস্তক্ষেপের বাইরে এবং স্বাধীন থাকবে। ফলে কর্মচারীদের মনের সুপ্ত আশা শেষ পর্যন্ত কতটা পূরণ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।