আয় ৪ লক্ষের কম হলেও দিতে হবে ট্যাক্স রিটার্ন? এই ৬ ভুল করলেই আইনি ফাঁদে পড়বেন!

আপনি যদি এখনও আপনার আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল না করে থাকেন, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আইটিআর ফাইলিংয়ের শেষ মুহূর্তের উন্মাদনার মাঝেই কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল সরকার। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আইটিআর দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে, পাশাপাশি সাধারণ করদাতাদের জন্য রয়েছে একাধিক কড়া নিয়ম।
কাদের জন্য বাড়ল ITR দাখিলের সময়সীমা?
নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, যে সমস্ত করদাতার ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় রয়েছে, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক ট্যাক্স অডিটের (Tax Audit) আওতাভুক্ত নয়, তাঁরা এখন ৩১ অগাস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করার অতিরিক্ত সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে প্রধানত ITR-3 এবং ITR-4 দাখিলকারী যোগ্য করদাতারা এবং নির্দিষ্ট কিছু ট্রাস্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নন-অডিট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টগুলোকে তাদের হিসাব এবং কাগজপত্র প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বেতনভোগী ও সাধারণ করদাতাদের শেষ তারিখ কবে?
আপনি যদি চাকরিজীবী হন এবং সাধারণত ITR-1 বা ITR-2 ফাইল করে থাকেন, তবে আপনার জন্য ডেডলাইনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই সমস্ত করদাতাদের জন্য জরিমানা ছাড়াই আইটিআর ফাইল করার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জুলাই, ২০২৬। এর পরে রিটার্ন দাখিল করলে লেট ফি, সুদ এবং বিভিন্ন কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হতে পারে।
আয় ৪ লক্ষের কম হলেও কেন আইটিআর (ITR) বাধ্যতামূলক?
অনেকেরই ধারণা, বার্ষিক আয় নির্দিষ্ট করমুক্ত সীমার (যেমন নতুন কর ব্যবস্থায় ৪ লক্ষ টাকা) নিচে থাকলে আইটিআর ফাইল করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা 139(1) অনুযায়ী, ৬টি বিশেষ পরিস্থিতিতে আপনার আয় শূন্য বা করমুক্ত সীমার নিচে হলেও আইটিআর দাখিল করা বাধ্যতামূলক:
১. বিদ্যুৎ বিল: পুরো আর্থিক বছরে বাড়ি বা দোকানের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি খরচ করে থাকলে।
২. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট: কোনো কারেন্ট অ্যাকাউন্টে এক বছরে ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা করলে।
৩. বিদেশ ভ্রমণ: নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণে ২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি খরচ করে থাকলে।
৪. টিডিএস/টিসিএস (TDS/TCS): এক বছরে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট বা বিনিয়োগ থেকে কাটা টিডিএস-এর পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার বেশি হলে।
৫. সেভিংস অ্যাকাউন্ট: এক বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে বার্ষিক মোট ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা করলে।
৬. বিদেশি সম্পত্তি বা আয়: দেশের বাইরে কোনো সম্পত্তি থাকলে অথবা বিদেশ থেকে কোনো প্রকার আয় হলে।
তাই আপনার নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা মেনে দ্রুত আইটিআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।