‘অর্থনীতিতে ভারতকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ’! এসআইআর আবহে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যানের মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক

রাজ্যের সীমান্তে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান। প্রাক্তন এই তৃণমূল সাংসদের দাবি, অর্থনীতিসহ বহু প্রাথমিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে সেভাবে লোকজন ভারতে এসে কাজের খোঁজ করে না।
হুগলির দাদপুরের পুইনানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে আহমেদ হাসান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, “অনেক কিছুতেই প্রাথমিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। একথা অমর্ত্য সেন নিজে বলেছেন। তাই বাংলাদেশ থেকে লোকজন ভারতে এসে কাজ করার চিন্তাভাবনা করে না।”
আহমেদ হাসানের বিতর্কিত দাবি:
সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যানের বিতর্কিত মন্তব্যের মূল বিষয়গুলি হলো:
অর্থনৈতিক অগ্রগতি: “অনেক কিছুতেই প্রাথমিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
কাজের খোঁজে ভারতীয়রা: “বরং অনেক বেশি ভারতীয় বাংলাদেশে যান কাজের খোঁজে। বিশেষত, হোয়াইট কলার জবের জন্য।”
শিক্ষার জন্য ভারত থেকে বাংলাদেশ: “প্রতি বছর প্রায় ১০-১২ হাজার ছেলেমেয়ে বাংলাদেশে যায় ডাক্তারি পড়তে। বাংলাদেশ থেকে ৩-৪ হাজার ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করতে আসে।”
সীমান্তে জমায়েত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে এক হাত জমির জন্য ভাই ভাইকে খুন করতে ছাড়ে না। সেখানে বাংলাদেশিরা কী করতে আসবে? কে এদেরকে আশ্রয় দেবে? এগুলো অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।”
শাসক শিবিরে মুখে কুলুপ
তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ এবং সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যানের এমন মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসক শিবির। রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের আক্রমণ করা গেলেও, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা টানা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছে। হুগলি জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষস্তরের কোনো নেতাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনা
আহমেদ হাসানের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি ও সিপিআইএম।
বিজেপি (দীপাঞ্জন গুহ): বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ভারতের অর্থনীতিকে বাংলাদেশের চেয়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা করছেন। বরং তিনি বাংলাদেশ থেকে এসে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছে, সেই সব বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “আহমেদ হাসানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছিল।”
ডাক্তারি পড়ার কটাক্ষ: দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “আমি শুনেছি ভারত থেকে আমেরিকা, লন্ডন, ইউক্রেনে পড়াশোনা করতে যায়। কিন্তু, বাংলাদেশে মেডিক্যাল পড়তে যায়, এরকম শুনিনি। বরং বাংলাদেশ থেকে বহু লোক চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করা উচিত।”
সিপিআইএম (ঐক্যতান দাশগুপ্ত): হুগলির সিপিআইএম নেতা ঐক্যতান দাশগুপ্ত কটাক্ষ করে বলেন, “উনি পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান। ওঁকে গোটা পৃথিবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের চেয়ারম্যান হতে কে বলেছে? বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো হলে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করুন। উনি ঘোলা জলে মাছ ধরছেন।”
বিরোধী শিবির দাবি করেছে, আহমেদ হাসানের মতো নেতারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সহযোগিতা করছেন এবং তাঁর মন্তব্যে দেশবিরোধী কার্যকলাপের ইঙ্গিত রয়েছে।